আখ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় আগ্রহী কৃষকরা

টাঙ্গাইলে আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। ভালো দাম পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর আখ চাষ বেশি হয়েছে। গত বছর ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হলেও এ বছর ৭৮৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে।

অন্যদিকে রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় এবার আখের ফলনও ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকে আগাম আখ কেটে বাজারে বিক্রি করছেন চাষিরা। বাজার মূল্য কিছুটা কম হলেও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় চাষিরা খুশি এবং আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের খারজানা গ্রাম, ধরেরবাড়ী, কৃষ্ণপুর, বাঘিল, টাবলাপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আখ কাটা ও বিক্রির ব্যস্ততা চলছে। তবে সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় ব্যক্তিগত ভাবে টাঙ্গাইলে আখ চাষ করছেন বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, মাটির আদ্রতা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, ভালো জাত নির্বাচন, রোগব্যাধি কম থাকায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ফলন বেশি হয়েছে। আগাম আখ বাজারে আসায় কৃষকরা দামও বেশি পাচ্ছেন। এ বছর টাঙ্গাইলে অমৃত, রং বিলাশ, ঈশ্বরদী-১.২ সিএসি ২০৮ জাতের আখ রোপণ করেছেন কৃষকরা। আখ উৎপাদনে ঝুঁকি কম এবং অধিক উৎপাদনে বাড়তি টাকা আয় করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র বলছে, এ বছর ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে জেলায় ৭৮৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর, কালিহাতী উপজেলায় ৩০ হেক্টর, বাসাইল উপজেলায় ২ হেক্টর, মির্জাপুর উপজেলায় ৩২ হেক্টর, দেলদুয়ার উপজেলায় ৬৩ হেক্টর,নাগরপুর উপজেলায় ২৮০ হেক্টর, মধুপুর উপজেলায় ১১ হেক্টর, গোপালপুর উপজেলায় ১২ হেক্টর, ভূঞাপুর উপজেলায় ৫৫ হেক্টর, ঘাটাইল উপজেলায় ১৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। তবে ধনবাড়ী উপজেলা ও সখীপুর উপজেলায় কোনো আখ চাষ করা হয়নি। গত বছর টাঙ্গাইলের ৫৫৯ হেক্টর জমিতে ২৬ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন আখ উৎপাদন হয়েছিল।

সদর উপজেলার পোড়াবাড়ীর নজরুল ইসলাম দুই বিঘা জমিতে আখ চাষ করে খরচ বাদে প্রায় লাখ টাকার মত আয় হয়েছে। ধরেরবাড়ী এলাকার কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জায়গায় এ বছর আখ চাষ করেছি। তাতে আমার ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘা জমির আখ ৮৫-৯০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব। আমার প্রায় অর্ধেক টাকা লাভ হয়েছে। সরকারি ভাবে আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ দিলে আরো বেশি আখ চাষ করে লাভবান হতে পারতাম। কৃষ্ণপুর এলাকার কৃষক মো. খালেক বলেন, এবারের বন্যায় আখের তেমন ক্ষতি হয়নি। কৃষি অফিস থেকে আমাদের তেমন কোনো সহযোগিতা করে নাই। সহযোগিতা পেলে আরো বেশি সহজ হতো। কৃষি অফিস থেকে অফিসার আসলেও তারা সড়ক থেকেই চলে যান ক্ষেত পর্যন্ত আসেন না।

পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম হিরো বলেন, আমি ১৯৮৯ সাল থেকে আখের ব্যবসায় করছি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি করে থাকি। দাম ভালো হওয়ায় দিন দিন টাঙ্গাইলের কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

এ বছর আমি প্রতি আখ ৮-১৬ টাকা ধরে কিনে ঢাকা, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছি। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দাম ভালো পাওয়ায় টাঙ্গাইলে দিন দিন আখ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছরের বন্যায় আখের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকের সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।