জুয়েলকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের

গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চান নেতাকর্মীরা

টাঙ্গাইল ২২ অক্টোবর : আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন আগামী ১৬ নভেম্বর। সম্মেলনকে ঘিরে জমে উঠেছে পদ প্রত্যাশীদের প্রচার প্রচারনা ও লবিং। শোনা যাচ্ছে ক্লিন ইমেজের সাবেক ছাত্র নেতারা গুরুত্বপূর্ণ আসতে পারেন।

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতা ও বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্যতম সদস্য আহম্মদ উল্লাহ্ জুয়েলের নাম শোনা যাচ্ছে জোরেসোরেই। তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চান স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা।

আহম্মদ উল্লাহ্ জুয়েল ১৯৮০ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নগরবাড়ী গ্রামে আওয়ামী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাজাহান মিয়া ও জহুরা খাতুনের ৩ সন্তানের একমাত্র ছেলে। জুয়েলের পিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্বপালন করছেন।

স্কুল জীবনেই ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে জুয়েল রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি কালিহাতীর নারান্দিয়া টিআরকেএন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে এসএসসি পাস করেন। এসময় তিনি স্কুল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন এবং ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ এবং ২০০৫ সালে কৃতিত্বের সাথে এমবিএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়রত অবস্থায় তিনি স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন। ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি জামায়াতের শাসনামলে নানাবিধ নির্যাতন সহ্য করে আওয়ামী লীগের দু:সময়ে সাহসিকতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১/১১ সময়ে শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ঢাকার লালবাগে স্ব-পরিবারে বসবাস করছেন এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সকল কর্মসূচিতে অগ্রভাগে থাকেন। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির উদ্যোগে “সবুজ পরিবেশ আন্দোলন” এর অংশ হিসেবে সারাদেশে চলছে বৃক্ষরোপন অভিযান। তিনি সেই কর্মসূচী বাস্তবায়নের একজন সক্রিয় কর্মী।

কালিহাতী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন আহম্মদ উল্লাহ জুয়েল ছোট বেলা থেকে ছাত্রলীগ করতে করতে এ পর্যন্ত এসেছেন। তার বাবা আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ। টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাতিনুজ্জামান খান সুখন বলেন, তিনি পরিচ্ছন্ন একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ভাল মনের মানুষ। আমরা যে কোন প্রয়োজনে তাকে কাছে পাই। আগামী কমিটিতে টাঙ্গাইলের নেতাকর্মীরা তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চাই। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম উজ্জল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর ব্যাপক নির্যাতন চালায়। সেই সময়ের নির্যাতিত ত্যাগী ছাত্রনেতা আহম্মদ উল্লাহ্ জুয়েল। দল বর্তমানে ত্যাগীদের খুঁজছে। জুয়েলের মত দু:সময়ের পরীক্ষিত ছাত্রনেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসলে দল ভাল থাকবে।

আহম্মদ উল্লাহ জুয়েল বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করি। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাত্রলীগ করেছি। এখন আওয়ামী লীগের সুসময়ে অনেকেই নেতা হয়েছেন। যারা কখনোই আওয়ামী লীগ করেননি। ব্যবসা আমার পেশা, রাজনীতি আমার নেশা। স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন কর্মী হয়ে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি আগামি কমিটিতে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।