নেই ব্রিজ সংযোগ; জনদুর্ভোগ চরমে

টাঙ্গাইল ২২ অক্টোবর : টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নে ধলেশ্বরীর শাখা নদীর উপর নির্মিত করাইল ব্রিজে সংযোগ সড়ক(অ্যাপোচ) না থাকায় চার গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয়রা ওই ব্রিজ দিয়ে চলাচলের জন্য সংযোগ সড়কের পরিবর্তে বাঁশের মাচা লাগিয়ে ব্যবহার করছে।


জানাগেছে, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সংদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন করাইল ফুটওভার ব্রিজটি উদ্বোধন করেন। ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪৫ মিটার দীর্ঘ ২.২ মিটার প্রস্থের ওই ব্রিজটি নির্মাণে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ অর্থায়ন করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) টাঙ্গাইল উপজেলার তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোমা এণ্টারপ্রাইজ বাস্তবায়ন করে।


এলাকাবাসী জানায়, খারজানা, বাউসাত, চৌবাড়িয়া ও করাইল চারটি গ্রামের মানুষের তোরাপগঞ্জ ও কাতুলীর সাথে যোগাযোগের প্রধান সড়ক এটি। ওই সড়কে ধলেশ্বরীর শাখা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসী খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ কমেনি। করাইল ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়কের(অ্যাপ্রোচ) অভাবে চলাচল করা যাচ্ছেনা। তারা নিজেদের প্রচেষ্টায় বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করে কোনরকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে ওই বাঁশের মাচা মরন ফাঁদে পরিণত হয়। ইতোমধ্যে বাঁশের মাচা থেকে পড়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বৃদ্ধ মহিলা ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হচ্ছে। উদ্বোধনের পর দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাগত হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।


স্থানীয় সিকদার পাড়া মাদ্রাসার ছাত্র বাউসাত গ্রামের আতিক(১২) বলেন, আমরা প্রতিদিন সাইকেল নিয়ে মাদ্রাসায় যাই। ব্রিজটি পাড় হতে ভীষন কষ্ট হয়, কখনো নিচে পড়ে যাই। বৃষ্টি হলে সেদিন আর মাদ্রাসায় যাওয়া হয় না।


করাইল গ্রামের নায়েব আলী ক্ষোভের সাথে বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্রিজটি কোন কাজে আসছে না। বরং বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে বাঁশের মাচা ভিজে পিচ্ছিল হয়ে যায়। ইতোমধ্যে বেশ ক’জন পড়ে আহত হয়েছে। আর ব্রিজের দুই পাশের মূল সড়কে মাটি ভরাট না করলে সংযোগ সড়ক করেও খুব বেশি সুফল আসবে না।


খারজানা গ্রামের গৃহবধু নাছিমা আক্তার বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের এই ব্রিজ পাড় হয়ে স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে হয়। আমরা এসে হাতধরে পাড় করে দেই। দ্রুত সংযোগ সড়ক ও মূল সড়কে মাটি ফেলে উচুু করার দাবি জানান তিনি।


কাতুলী ইউনিয়নের ৩নং ওযার্ডের ইউপি সদস্য সাখাৎয়াত হোসেন জানান, দীর্ঘদিন চেষ্টার পর শুনেছি সংযোগ সড়কটি নির্মাণের জন্য কিছু চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে সেটা বলতে পারছি না। আর সেতুর দুই পাশের সড়কে মাটি ফেলার বিয়য়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে ইউপি চেয়ারম্যান অবগত আছেন।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোমা এণ্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধায়ক মো. ফরিদ জানান, ওই ব্রিজের সাথে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কোন অর্থ বরাদ্দ ছিলনা। তিনি আরো জানান, প্রথমে ব্রিজের উইংওয়াল ইট দিয়ে তৈরি করার ডিজাইন করা হয়েছিল। পরে ডিজাইন পরিবর্তন করে আরসিসি করা হয়। বন্যার কারণে উইংওয়াল তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, উইংওয়াল ছাড়া সংযোগ সড়কে মাটি ফেলে কোন লাভ হবে না। সড়কের মাটি ধসে যাবে।


কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মিঞা বলেন, ব্রিজটির সংযোগ সড়কের জন্য সম্প্রতি ১০মে.টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।


এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সংসদ সদস্য মো. ছানোযার হোসেন বলেন, বন্যার কারণে ব্রিজের সংযোগ সড়ক ও করাইল সড়কে মাটি ফেলার কাজ করা সম্ভব হয়নি। আপাততঃ সংযোগ সড়কের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পরে দুই পাশের সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।