- ভোরের বার্তা - https://bhorerbarta.com -

গ্রামের অর্ধপরিবার এখনো কৃষিনির্ভর

ঢাকা ২৮ অক্টোবর : শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবে পেশা পরিবর্তন করছেন অনেকেই। এক সময়ের কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো অন্যান্য নানা পেশায় ঝুঁকছে। মূলত শহুরে পরিবারগুলোর মধ্যেই এ প্রবণতা বেশি। তবে এখনো দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার কৃষিনির্ভর।

কৃষিশুমারি ২০১৯-এর তথ্যমতে, দেশের ৪৬ দশমিক ৬১ শতাংশ পরিবারই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে ৫৩ দশমিক ৮২ শতাংশ গ্রামে, আর ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ শহরে বাস করছে।

গতকাল কৃষিশুমারি ২০১৯-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশালে ৬৬ শতাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর। বিভাগটিতে গ্রামের ৬৯ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং শহুরে পরিবারের ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বরিশালের পর কৃষিনির্ভর পরিবারের হার বেশি ময়মনসিংহে। এ বিভাগে ৫৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ পরিবার এখনো কৃষিনির্ভর। এর মধ্যে গ্রামে রয়েছে ৫৮ দশমিক ৩১ ও শহরে ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ পরিবার। এছাড়া কৃষির ওপর নির্ভরশীল এমন পরিবার চট্টগ্রামে ৪৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ঢাকায় ৩০ দশমিক ৭৯, খুলনায় ৫৪ দশমিক ৭৮, ময়মনসিংহে ৫৫ দশমিক ৭৫, রাজশাহীতে ৫১ দশমিক ১১, রংপুরে ৫৫ দশমিক ৪৭ ও সিলেটে রয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। শহরে বাস করা কৃষিনির্ভর পরিবারের হার সবচেয়ে কম ঢাকাতে, মাত্র ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

দেশে জমির মালিকানা নেই এমন পরিবার রয়েছে ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শহরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে এ হার বেশি। শহরের ২৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ পরিবারের ভূমির মালিকানা নেই। আর গ্রামে জমির মালিকানা নেই এমন পরিবার রয়েছে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জমির মালিকানাবিহীন পরিবারগুলোর মধ্যে বরিশালে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭ দশমিক ৭৭, ঢাকায় ১৮ দশমিক ৬৪, খুলনায় ৯ দশমিক ৮, ময়মনসিংহে ৬ দশমিক ৯৪, রাজশাহীতে ৮ দশমিক ৫৫, রংপুরে ৮ দশমিক ৮৩ ও সিলেট বিভাগে ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ বাস করছে।

সিলেট বিভাগের গ্রামে জমির মালিকানাবিহীন পরিবারের হার ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এটি দেশের গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এ হার বরিশালে ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫ দশমিক ২, ঢাকায় ১০ দশমিক ৪৮, খুলনায় ৭ দশমিক ৩৩, ময়মনসিংহে ৬ দশমিক ১৮, রাজশাহীতে ৭ দশমিক ৭৭, রংপুরে ৮ দশমিক ২২ ও সিলেটে ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ।

শহরে বাস করা জমির মালিকানাবিহীন পরিবারের হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে। সেখানে ৩৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ পরিবারের জমির মালিকানা নেই। এ তালিকায় এরপর রয়েছে ঢাকা। এ বিভাগটিতে জমির মালিকানাবিহীন শহুরে পরিবারের হার ৩৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ হার বরিশালে ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২১ দশমিক ৭৬, খুলনায় ৩২, ময়মনসিংহে ১৮ দশমিক ৩৬, রাজশাহীতে ১৬ দশমিক ৫৩ ও রংপুরে ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএসের সম্মেলন কক্ষে কৃষিশুমারি ২০১৯-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি বলেন, প্রকাশিত কৃষিশুমারিতে কিছু ভুল-ত্রুটির কথা বলা হয়েছে। কিছু উঠতি ফসল বাদ পড়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উপাত্ত তৈরির সময় সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, বিবিএসকে একটি জাতীয় সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা। আইনত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সব পরিসংখ্যান এখান থেকেই হয়ে থাকে। এরই মধ্যে বিবিএসের সক্ষমতা বেড়েছে। আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠান বিবিএসের উপাত্তকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, কৃষি হলো আমাদের মা। মা যতই মলিন হোক, শেষ পর্যন্ত আমাদের মায়ের কাছেই ফিরতে হয়। দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৪ শতাংশ হলেও ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো কৃষিনির্ভর।

অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী বলেন, এ মুহূর্তে আমরা প্রাথমিক কৃষিশুমারিটি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে। কৃষিশুমারি থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এতে দেখা গেছে, দেশে অপ্রধান ফসলের উৎপাদন বেড়েছে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ছিল ৬০ শতাংশ। এটি এখন ১৪ শতাংশ। তার মানে এই জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান কমেছে। কৃষির ভলিউম বেড়েছে, কিন্তু দেশের অন্যান্য খাত বিকশিত হওয়ায় শতকরা হিসাবে কৃষির অবদান কমেছে। কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে উপাত্ত ও পরিসংখ্যানের বিষয়ে আমাদের আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। প্রায় সময় বিবিএসের উপাত্ত ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব উপাত্তের মধ্যে তারতম্য দেখা যায়। এ বিষয়ে আমাদের আরো সতর্ক হতে হবে। কৃষিতে নতুন যেসব পণ্য আসছে, সেগুলোকেও উপাত্ত তৈরির সময় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিবিএসের মধ্যে সমন্বয় করা হলেও উপাত্তের পার্থক্য কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

কৃষিশুমারির গণনা কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর একটি বিস্তারিত প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে কৃষি খানায় নমুনা শুমারি শুরু হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক শুমারিও পরিচালিত হবে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। মাঠ পর্যায়ে মূল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের ৯-২০ জুন। ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৯১ জন গণনাকারী এতে অংশ নেন।