রাঙ্গাকে নিয়ে সংসদে কড়া সমালোচনা

ঢাকা ১৩ নভেম্বর : এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাকে নিয়ে এবার সংসদে কড়া সমালোচনা করেছেন তার দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা মশিউর রহমান রাঙ্গাকে সংসদে এসে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান এবং জাতীয় পার্টির অবস্থান জানতে চান। 

এরপর সংসদে ফ্লোর নিয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

নূর হোসেনের প্রতি জাতীয় পার্টির শ্রদ্ধা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নূর হোসেন ’৯০-তে তার জীবন দিয়ে গেছেন। যে যুবক গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিতে পারেন, স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করতে পারেন সেই সাহসী যুবকের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। আমরা কখনো এই ধরনের ধৃষ্টতা দেখাই নাই। এই ধরনের অপমানজনক কথা কখনো বলি নাই। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য হতে পারে না।

রাঙ্গার বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে সংসদে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, “সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্য জাতীয় পার্টির বক্তব্য না। এটা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য হতে পারে না। এটা রাঙ্গার নিজস্ব বক্তব্য হতে পারে। এই বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টি লজ্জিত।”

রাঙ্গার বক্তব্য তার একান্ত ব্যক্তিগত এর দায়ভার জাতীয় পার্টি নেবে না বলে জানিয়ে দলের পক্ষে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আমাদের যৌবনের ধর্মই হলো আন্দোলন-সংগ্রাম। কতজন পারে তার জীবন বিলিয়ে দিতে? সেই নূর হোসেন সম্পর্কে যে কথা বলেছে তাকে ঔন করি না। আমাদের দল এটাকে গ্রহণ করে না। আমরা চরম ঘৃণাভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা লজ্জিত। দুঃখ প্রকাশ করছি। এটা তার ব্যক্তিগত কথা। এ জন্য দল তার দায়িত্বে নেবে না।

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ মনে করে বঙ্গবন্ধু কন্যা আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। আমি বিরোধী দল করতে পারি। প্রত্যেকটি মানুষ মনে করে যতদিন শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন ততদিন এই দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে। ততদিন এই দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে এবং এই দেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। আমাকে যদি প্রধানমন্ত্রী সেদিন পরিচয় করিয়ে না দিতেন, আমার জন্য যদি ভোট না চাইতেন আমি নির্বাচিত হয়ে এই সংসদে আসতে পারতাম না। মানুষ এত অকৃতজ্ঞ হয় কিভাবে?

আওয়ামী লীগের জোরে ভোট পেয়েছেন রাঙ্গা বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাঙ্গা সাহেব পাস করেছেন, মনে করছেন তার নিজের জোরে। পিছে যদি আওয়ামী লীগ না থাকত, ওই রংপুরে নামতেও পারতো না। কার কত ভোট আছে আমাদের জানা আছে। আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

ফিরোজ রশীদ আরও বলেন, “একটি কথা আছে বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে। এই লাই আমরা দেই নাই। এই লাই এই সংসদই দিয়েছে। যাদের অতীত নাই, বর্তমানে কিছুই ছিল না। হঠাৎ তাকে মন্ত্রী বানানো হলো, একটার পর একটা প্রমোশন দেওয়া হলো। আমরা তো তাজ্জব হয়ে গেলাম! এগুলো আমরা দেইনি। এই সংসদে সে চিফ হুইপ। আমি একদিন বললাম তাজুল ইসলাম চৌধুরী মারা গেছেন, তার বিষয়ে বক্তব্য রাখব। সে বলে—আপনি দেবেন, আমি কেন নাম পাঠাব। এই ধৃষ্টতা সে দেখাতে পারে!”

জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। ওদের মুখে গণতন্ত্র মানায় না। আগে গণতন্ত্র বুঝতে হবে। এই গণতন্ত্র মুখে দেয় নাকি মাথায় দেয়।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।