সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ: ফখরুল

টাঙ্গাইল ১৭ নভেম্বর : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের দূর্নীতি, অদক্ষতা এবং তাদের মদত পুষ্ট ব্যবসায়ীদের কারনেই দেশে পেঁয়াজসহ সকল দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্ব গতি। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা। অনির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনায় পুরো পুরি ব্যর্থ হয়েছে।

রোববার (১৭ নভেম্বর) সকালে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যু বার্ষিকীতে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাাচ্ছি। বাংলাদেশে এখন কোন গণতন্ত্র নেই। মানুষের অধিকার নেই। বর্তমান সরকার বিনা ভোটে জোর করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয় বলে দেশে স্বৈরশাসন চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামীলীগ কাউকে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে না। অন্যায়ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। মভ দেশ মাতা খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমেই মুক্ত করা হবে।

মওলানা ভাসানীর বিষয়ে বলেন, তিনি কৃষক শ্রমিক মানুষের নেতা ছিলেন। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সব সময় খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সামছুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারন সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মিরা।

দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারো দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, ওরশ, স্মরণ সভা, গন ভোজ, মেলাসহ বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসুচী পালন করছে। এসব কর্মসুচীর মধ্যে রয়েছে মিলাদ, দোয়া মাহফিল, ওরশ, দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, কাঙালী ভোজ, মাওলানা ভাসানীর কর্মময় জীবনের উপর আলোচনা সভা, বাউল গান সহ নানা কর্মসুচী।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ভোর হতেই টাঙ্গাইলের সন্তোষে ভাসানীর মাজারে ভক্ত ও মুরিদানদের ঢল নামে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৬ সালের এইদিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মাওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মাওলানা ভাসানী তাঁর জীবনের বড় অংশই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। তিনি তার কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। মাওলানা ভাসানী অধিকারবঞ্চিত অবহেলিত মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে মাওলানা ভাসানী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি সবসময় ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি । বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে গঠিত প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা মÐলীর সভাপতি ছিলেন তিনি।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।