বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন ৯ বছর বয়সেই

আন্তর্জাতিক ২১ নভেম্বর : বিস্ময়কর মনে হলেও, মাত্র ৯ বছর বয়সেই বেলজিয়ান এক বালক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিতে চলেছে। বলা হচ্ছে, আসছে ডিসেম্বর মাসে সে তার ডিগ্রি অর্জন করবে এবং সেরকম হলে বিশ্বে সে-ই হবে সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী কোনো ব্যক্তি। লরেন সিমন নামের এই বালকটি বিবিসিকে বলেছে, তার বয়স যখন মাত্র ছয় তখনই সে হাই স্কুলে পড়াশোনা শুরু করে।

সে আশা করছে যে আগামী মাসে সে হল্যান্ডের আইন্ডহফেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করতে পারবে। তার বয়স যখন ৮ তখন থেকে সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে শুরু করে।

লরেন বলেছে, তার স্বপ্ন কৃত্রিম অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তৈরি করা এবং এ জন্য সে এখন মেডিসিনে পড়াশোনা করতে চায়। বিশেষ করে সে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড তৈরি করতে চায়। স্কুল লরেনের কাছে খুব একটা আনন্দের জায়গা ছিল না। সে বলছে, ‘স্কুল হচ্ছে একঘেয়ে জায়গা।’ তবে সে বন্ধুদের সাথে কম্পিউটার গেম খেলতে পছন্দ করে। সে নিজেকে খুবই অলস প্রকৃতির বলেও দাবি করেছে।

সাংবাদিকদের লরেন জানিয়েছে, সে দাবা খেলে না এবং কোনো বাদ্যযন্ত্রও বাজাতে পারে না। কিন্তু সে ভিডিওতে ‘ফোর্টনাইট’ ও ‘মাইনক্রফ্ট’ গেম খেলতে ভালোবাসে, এবং নেটফ্লিক্সেও ছবি দেখে। লরেনের স্মৃতি-শক্তি খুবই প্রখর। সব কিছু সে ছবির মতো করে মনে রাখতে পারে। তার আইকিউ ১৪৫, যা আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিংয়ের আইকিউর কাছাকাছি।

লরেনের বাবা আলেকজান্ডার সিমন একজন দাঁতের ডাক্তার। তিনি বলেন, তারা তার সন্তানের জন্যে অতিরিক্ত কিছু করেননি। আর সবার মতোই সে স্কুলে যেত। তার শিক্ষকরা বলতেন যে লরেন খুব মেধাবী। তারা তাকে অতিরিক্ত কাজ দিতেন। বাড়তি কিছু পরীক্ষাও নিতেন তার। তিনি বলেন, কীভাবে তার সন্তান এত দ্রুত পড়াশোনা করেছে সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা নেই।

লরেনের শিক্ষকরা বলছেন, সব কিছু সে খুব দ্রুত শিখতে পারে। এ রকম শিক্ষার্থী তারা আগে কখনো পাননি। এ জন্য তারা তাকে ডাকেন ‘জিনিয়াস’ হিসেবে। তবে লরেন কিন্তু অন্যান্য অসাধারণ প্রতিভাধর ব্যক্তিদের মতো নয়। সোশাল মিডিয়াতেও সময় কাটায় সে। গত শুক্রবার পর্যন্ত ইন্সটাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার। বেলজিয়ামের ওসটেনেড শহরে লরেনের জন্ম। সেখানেই সে তার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছে। তার বাবা-মা তখন হল্যান্ডে কাজ করতেন।

লরেনের বাবা জানান, ৪ বছর বয়সে সে প্রাইমারি স্কুল শুরু করেছিল আর যখন সে হাই স্কুলে যায় তখন তার বয়স ছিল ছয়। সেখানে প্রায় ছয় বছরের লেখাপড়া সে মাত্র দেড় বছরেই শেষ করে ফেলেছে। এখন সে তার বাবা ও মায়ের সাথে আমস্টার্ডামে বসবাস করে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।