শেখ হাসিনা-মমতা সৌজন্য সাক্ষাতে মৈত্রীর বন্ধন

আন্তর্জাতিক ২৩ নভেম্বর : দুপুরে গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচের সূচনালগ্ন থেকে সন্ধ্যায় আলিপুরের পাঁচতারা হোটেলের একান্ত বৈঠক আর ক্রিকেটের মক্কায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুক্রবার গোটা দিন ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৈত্রীর বন্ধনে বাঁধলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতিতে দুই প্রতিবেশী দেশ যে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখবে না, সে অঙ্গীকারও নিয়েছেন ওপারের ‘আপা’ আর এপারের ‘দিদি’। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটি শরণার্থীকে গ্রহণ করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

দুই পারের দুই জননেত্রী একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর যেভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘মাইল স্টোন’ হয়ে থেকে যাবে। এপারের দিদি’র জন্য বাংলাদেশের তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী নিয়ে এসেছিলেন জামদানি শাড়ি সহ আরও অনেক কিছু। ওপারের আপার জন্য মমতার উপহার বাঁকুড়ার স্বর্ণচরী শাড়ি, শাল, ফুল, মিষ্টি আর বাংলার হস্তশিল্প সামগ্রী। তবে নিজের দেশের ক্রিকেট টিমকে উৎসাহ দিতে এসে বেশ হতাশ হয়েছেন হাসিনা আপা।

আগামীতে ভালো হবেই, এই প্রত্যয়ও রেখেছেন। হাসিনা আলিপুরের ওই পাঁচতারা হোটেলে দাঁড়িয়ে এপারের সাংবাদিকদের জানিয়ে দিয়েছেন, ইনসাল্লাহ, আগামী দিনে আরও ভালো খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘মেন ইন ব্লু’ আর ‘টাইগার’দের। টেস্ট ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে ইডেনে আসার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন কপিলদেব, শচীন তেল্ডুলকর, ভি ভি এস লক্ষ্মণ, অনিল কুম্বলেদের।

এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ইডেনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। তার কিছুক্ষণ পরে রাজনৈতিক সঙ্গী মন্ত্রিসভার সহকর্মী দীপু মণি, ছায়াসঙ্গী বিপ্লব বড়ুয়া সহ একঝাঁক মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বেলা সাড়ে ১২টায় সেখানে পৌঁছে যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিক নানা পর্বের পর তাঁকে ক্লাব হাউসে নিয়ে যান মমতা এবং বিসিসিআই-এর সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সিএবি’র যুগ্মসচিব অভিষেক ডালমিয়া প্রমুখ। সেখানেই মমতার সঙ্গে কিছু কথাবার্তা সেরে নেন হাসিনা। সিএবি’র তরফে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানার্থে আয়োজন করা হয়েছিল মধ্যাহ্নভোজের। গৃহকর্ত্রী মমতার তত্ত্বাবধানে তা শুরু হয়। নিজে কিছু না খেলেও হাসিনার জন্য নানা পদ এগিয়ে দিতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। আমিষ-নিরামিষ নানা পদ থাকলেও, পনিরের একটি পদ দিয়ে সামান্য ভাত আর একটা রুটি খান হাসিনা। বলেন, এখন তিনি নিরামিষই বেশি পছন্দ করেন।

এদিন সন্ধ্যা সওয়া ছ’টা নাগাদ আলিপুরের ওই পাঁচতারা হোটেলে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পার্ষদদের সঙ্গে মিলিত হন হাসিনা। আলোচনা পর্বে এপারের নানা জনমুখী প্রকল্পের বিষয়ে মমতার অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন হাসিনা। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মানোন্নয়নে ‘আপা’র প্রশংসনীয় অবদানের কথাও শুনিয়ে দেন ‘দিদি’।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।