সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরে যেতে চান মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, রবিবার থেকে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে নিজের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছি। (এ বিষয়ে) সবাইকে জানাব। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের অন্য অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ঘোষণা দেন তিনি।

মোদির টুইটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির ভেতরেই অনেকের প্রশ্ন, এর পরে আমাদেরও ছাড়তে বলা হবে নাকি?

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর পাল্টা টুইট করে লিখেছেন, ঘৃণা ছাড়ুন। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়। তাতে বিজেপির এক নেতা লিখেছেন, গান্ধী পরিবারের সমস্ত বিপ্লব তো টুইটেই। মদিজির এই ইঙ্গিতে এমন প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক।

অথচ ভোটের প্রচারে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন মোদি। সেই তিনি সত্যিই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

মেট্রোর কামরায় বসে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, চীনের মতো ভারতেও মত প্রকাশের সব রাস্তা কি বন্ধ করে দেওয়া হবে? সারা দেশই কাশ্মীর হয়ে যাবে নাকি?

কারো জিজ্ঞাসা, ভোট-প্রচার থেকে বিরোধীদের নেটে হেনস্থা (ট্রোল)— সব বিষয়ে সিদ্ধহস্ত বিজেপি নেতা ‘সন্ন্যাস’ নিতে যাবেন কেন? অনেকেই মনে করছেন, মার্কিন বহুজাতিককে হটিয়ে হয়তো ‘দেশীয় অবতার’ আনার কথা ঘোষণা করবেন মোদি। গ্রাহকদের যাবতীয় তথ্য বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার হাতে যাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন দড়ি টানাটানি চলছে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। এই জল্পনায় ইন্ধন জুগিয়েছে আরো কিছু তথ্য।

প্রথমত, সংঘ পরিবার স্বদেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের পক্ষপাতী। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের অশ্বিনী মহাজন টুইট করেছেন, কখনো এভাবে ছেড়ে দেবেন না। বরং টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের দেশি সংস্করণ তৈরিতে সহায়তা করুন।

মন্ত্রী ও আমলাদের নিজেদের মধ্যে কথা বলার জন্য হোয়াটসঅ্যাপের ধাঁচে মেসেজিং সার্ভিস তৈরি করছে ন্যাশনাল ইনফর্মেটিক্স সেন্টার। বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট তৈরির দায়িত্বে থাকা ওই সংস্থার এই পাইলট প্রকল্পের নাম জিআইএমএস। অনেকের প্রশ্ন, তার পরিধি বাড়িয়ে ‘দেশি হোয়াটসঅ্যাপ’ কি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা?

ফেসবুকে ফলোয়ারের সংখ্যায় মোদির সামনে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০০৯ সালে যোগ দেওয়া টুইটারেও ফলোয়ারের সংখ্যা ৫.৩৩ কোটি। সেই মোদি হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরে যেতে চাওয়ায় অনেকের প্রশ্ন, মোদি তো সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন না। এবার সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও সরে গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগের উপায় কী?

মোদির নমো টিভি, নমো অ্যাপের ভবিষ্যৎ কী? কেউ বলছেন, দিল্লির সংঘর্ষে দেরিতে মুখ খোলা থেকে শুরু করে অর্থনীতি— বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেই এমন ভাবনা। বিশেষত তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন অর্থনীতির ভরাডুবি নিয়ে কিভাবে আক্রমণ করতেন, বর্তমানে তা বার বার উঠে আসছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেজন্যই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন মোদি।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।