রাজশাহী জেলা আ’লীগ: হাইকমান্ডের তোপের মুখে সভাপতি ও সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন দিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন জেলার দুই শীর্ষ নেতা। কমিটিতে নিজেদের লোক ঢোকানো নিয়েই এ দ্বন্দ্ব। রাজশাহীর এমপিরাও কমিটিতে নিজেদের লোক ঢোকাতে মরিয়া। চতুর্মুখী চাপে কাহিল জেলা কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় পিছিয়ে যাচ্ছে কমিটি গঠনও।

জেলা সম্মেলনের পর ৩ মাস পার হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত না হওয়ায় তোপের মুখে এখন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এটা করতে না পারলে এ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি দেয়া হবে। গত রোববার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এ ব্যাপারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, শিগগিরই নতুন কমিটি গঠিত না হলে জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি দেয়া হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্মেলন হয়েছে গত ৮ ডিসেম্বর।

এরই মধ্যে প্রায় তিন মাস পার হয়েছে। আপনারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনারা দুইজন নেতার পরিচয় দেবেন আর অন্যরা লজেন্স চুষবেন তা হতে পারে না। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হলে এ কমিটি বাতিল করা হবে। জেলা কমিটির ৮ ডিসেম্বরের ওই সম্মেলনে জাহাঙ্গীর কবির নানকও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র বলছে, গত ৮ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লাকে সভাপতি এবং আবদুল ওয়াদুদ দারাকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন।

এছাড়া বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু এবং রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কাউন্সিলে উপস্থিত দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা হাইকমান্ডের কাছে দাখিলের নির্দেশ দেন। অভিযোগ উঠেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে জেলার ৮ উপজেলা এবং ১৪টি পৌরসভার নেতা বা সংগঠকদের সেভাবে যোগাযোগ নেই। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

তার ওপর নতুন কমিটির নেতা বাছাই করা নিয়েও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তারা এখন রীতিমতো দুই ভাগে বিভক্ত। বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেরাজ মোল্লাকে সমর্থন করছেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি প্রকৌশলী এনামুল হক এবং রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি ডা. মনসুর রহমান। অপরদিকে দারার প্রতি সমর্থন রয়েছে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের এমপি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, কমিটি গঠন করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। একটি পক্ষ হাইব্রিড নেতাদের জেলা কমিটিতে নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তারা নিজেদের লোকজন কমিটিতে রাখতে চাইছে। ফলে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কারা জটিলতার সৃষ্টি করছে- তাদের নাম বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে আসা লোকজনকে জেলা কমিটিতে ঠাঁই দেয়া হবে না। বিএনপি-জামায়াতে যারা ছিলেন, তাদের অনেকেরই আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এরা কমিটিতে আসতে চাইছেন। তবে জীবন থাকতে জেলা কমিটিতে তাদের আসতে দেব না। আর আগামী ১৫ দিনের আগেই জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা সভাপতির সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব বলেন, অন্য দল থেকে আসা নেতাদের জেলা কমিটিতে স্থান দেয়ার জন্য কোনো চাপ নেই। আমরা একসঙ্গেই কাজ করছি। জেলা কমিটি গঠনে একটু সময় লাগছে। তারপরও আমরা আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো সম্ভব হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।