পরীক্ষায় সেঞ্চুরি; ফলে স্বস্তি

ভোরের বার্তা ২৬ এপ্রিল ২০২০ : জ্বর, সর্দি-কাশি হলেই এবার লালারসের পরীক্ষা। দিনকয়েক আগেই চালু হয়েছে কোচবিহারে। এরই মধ্যে যে কয়জন ব্যক্তির লালারস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, তার মধ্যে ৯০টি রিপোর্টই নেগেটিভ। 

বৃহস্পতিবার কোচবিহার আরও ২৮ জনের লালারস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। 

স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, একে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সমীক্ষার কাজ চলছে। থার্মাল স্ক্রিনিংও হচ্ছে। সেই পরীক্ষায় যাঁদের জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা, তাঁদের লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হচ্ছে।  সেই সঙ্গে যাঁরা উপসর্গ নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছেন, তাঁদেরও লালারস পরীক্ষা করা হচ্ছে। 

কোচবিহারের সিএমওএইচ সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “জেলা জুড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সবার থার্মাল স্ক্রিনিং হচ্ছে। সেখান থেকেই লালারস পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হচ্ছে।”

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রেই জানা গিয়েছে, খুব দ্রুত জেলার সমস্ত এলাকার প্রতিটি বাড়ি ঘুরে ওই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করতে চাইছে স্বাস্থ্য বিভাগ। 

সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস মোকাবিলার ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা এগিয়ে থাকা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অবশ্যই মনে করা হচ্ছে, ওই কাজ শেষ হলেই যে জেলা পুরোপুরি ঝুঁকির বাইরে চলে যাবে, তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ অনেকের মধ্যেই রোগ লুকিয়ে রাখার মানসিকতা রয়েছে বলে অভিযোগ। 

অনেকেই আবার অভিযোগ তুলেছেন, প্রশাসন রোগীদের দেখভাল এবং চিকিৎসার বিষয়ে সঠিক পরিষেবার আশ্বাস দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। যদিও এ কথা মানতে নারাজ স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। 

প্রথমদিকে দুই-একটি ভুলত্রুটি হলেও পরবর্তীকালে প্রশাসন ও পুলিশ কড়া হাতে ময়দানে নামে। সেই সঙ্গে কোচবিহার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করে সর্দি-কাশি-জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের রোগীকে সেখানেই রাখা হয়। সেই সঙ্গে দ্রুত কোভিড-১৯ হাসপাতালেও পরিষেবা চালু করা হয়। 

জেলা থেকে বহু মানুষ কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হতেই ওই বাসিন্দাদের একটি অংশ জেলায় ফেরেন। লকডাউনের মধ্যেও অনেকে ফেরেন। সেই সংখ্যা কমপক্ষে দশ হাজার। সেই বাসিন্দাদের নিয়েই চিন্তিত ছিল প্রশাসন। তাঁদের অধিকাংশকেই হোম কোয়রান্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাকিদের কোয়রান্টিনে রাখা হয়। তার মধ্যেই অনেকেরই ২৮ দিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। তা হলেও সাবধানতায় পিছিয়ে থাকতে চাইছে না জেলা। কোচবিহার সদর মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, “লকডাউন সবাইকে মেনে চলতে হবে। সে জন্য প্রচার চলছে। সেই সঙ্গে আইন মেনে ব্যবস্থাও হচ্ছে।”

সূত্র আনন্দবাজার পত্রিকা

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।