রাজশাহী প্রেসক্লাবের উদ্বেগ, জোরালো হচ্ছে প্রতিবাদ

ওসির নির্দেশে সম্পাদকের নামে জিডি ঘটনায় তদন্তে আরএমপি

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহীর পাঠক নন্দিত গণমানুষের দৈনিক গণধ্বণি প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ইয়াকুব শিকদারের নামে সাধারণ ডায়েরি করিয়েছেন নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজশাহী প্রেসক্লাব। মঙ্গলবার রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, গণধ্বনি প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক সম্পাদক ইয়াকুব শিকদার ব্যক্তিগত কাজে রাজাপাড়া থানায় গেলে ফেরার পথে তার সাথে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন।

তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করা হলে উল্টো তার নামেই সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়। যা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা এর তিব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। একইসাথে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে, এই ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী জেলা শাখা। গতকাল রাতে প্রেরিত এক বার্তায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী জেলা শাখার পক্ষে সভাপতি রফিক আলম এক বিবৃতিতে জানান, গণধ্বনি প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ইয়াকুব শিকদার রাজপাড়া থানায় ব্যক্তিগত কাজ সেরে ফেরার সময় কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন।

বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ হিসাবে জানালে উল্টো তার নামেই সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়। যা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা এর তিব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। একইসাথে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে, থানা পুলিশের এমন কান্ডর প্রতিকার চেয়ে সম্পাদক ইয়াকুব শিকদারের করা লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ। সোমবার থেকে এই তদন্তকাজ শুরু হয়। এর আগে শনিবার এই ঘটনায় আরএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন সম্পাদক ইয়াকুব শিকদার।
ওসির এমন কান্ডে রাজশাহীর সর্বস্তরের সাংবাদিক মহলে বইছে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়। দিনে দিনে প্রতিবাদ আরো জোরালো হচ্ছে। অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনে যাবার কথা জানিয়েছের সাংবাদিকরা।

পুলিশের এমন কান্ডের  তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। মঙ্গলবার সকালে জরুরী সভার মাধ্যমে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা জিডি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।

প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবিন সাংবাদিক মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি শিরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান, যুগ্মসম্পাদক-২ আব্দুল হান্নান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবর, সদস্য আবু হানিফ ও মোহাইমিনুল হক স্বপন। এ দিকে এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনার জন্য চারঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাতিকবৃন্দ চরম ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

সম্পাদক ইয়াকুব শিকদারের অভিযোগ, তার সাথে রাজপাড়া থানার কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম অসৌজন্যমুলক ও অপেশাদার আচরণ করেছেন। কিন্তু প্রতিকার না করেই উল্টো জিডি করিয়েছেন ওসি। বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলছেন ইয়াকুব শিকদার। এ নিয়ে তিনি পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত চান তিনি।

ভুক্তভোগী এই সাংবাদিকের ভাষ্য, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গত বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে তিনি থানায় সেকেন্ড অফিসার মোস্তাক আহম্মেদের কাছে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে থানার দায়িত্বরত সেন্ট্রি শহিদুল ইসলাম তার পথরোধ করেন। এ নিয়ে তার সাথে প্রকাশ্যে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন শহিদুল। পরে সেকেন্ড অফিসারের কাছে ফিরে গিয়ে ইয়াকুব শিকদার বিষয়টি জানান।

তখনই সেকেন্ড অফিসার এসে কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কর্তব্যরত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন কনস্টেবল শহিদুল। প্রতিকার পেতে ইয়াকুব শিকদার বিষয়টি তখনই মোবাইলে আরএমপির মুখপাত্রকে জানান। বিষয়টি শীর্ষ পর্যায়ে জানাজানি হয়ায় ক্ষুদ্ধ হন ওসি। তিনি প্রতিকার না করেই পাঠিয়ে দেন। এর ঘন্টাখানেক পর তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করে পুলিশ। অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম।

এদিকে জিডির তদন্তভার দেয়া হয়েছে থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলামকে। বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, শনিবার থেকে তিনি তদন্তকাজ শুরু করেছেন। তদন্ত শেষ করে তিনি প্রতিবেদন দেবেন।

তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন এই ঘটনা ঘটে, তিনি তখন থানায় ছিলেন। সামান্য ভুলবোঝাবুঝি থেকেই এমনটি ঘটেছে। এমন তুচ্ছ বিষয় জিডি পর্যায়ে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে জানা নেই দাবি করেন শরিফুল ইসলাম। একই সাথে নিয়ম মেনে তদন্তকাজ শেষ করারও কথা জানান তিনি।

এদিকে, অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ওসি শাহাদাত হোসেন খান দাবি করেন, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম নিজেই জিডি করেছেন। এ নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে বিধি মেনেই সেটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে সেটি ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন ওসি।

সম্পাদকের লিখিত অভিযোগ তদন্ত শুরুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ওই সাংবাদিক শনিবার সকালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এখন সেটির তদন্ত শুরু হয়েছে সোমবার। তদন্ত করে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংবাদিকের নামে জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি থানার বিষয়টি। থানা সেটির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। তবে এই জিডি নিয়ে ওই সাংবাদিক যেনো কোন ধরণের হয়রানির শিকার না হন সে দিকেও নজর রাখা হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।