কাপাসিয়া খেয়াঘাটে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

ভোরের বার্তা ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ : গাজীপুরের কাপাসিয়া খেয়াঘাটে নেই সড়ক। চলাচলের জন্য ব্যবহার করতে হয় কাঁচাবাজারের ভেতরের সরু গলি। দীর্ঘদিন ধরে এ পথ দিয়ে চলাচল করায় তা পরিণত হয়েছে খেয়াঘাটের সড়কে। তাতেও দুর্ভোগের অন্ত নেই। বৃষ্টি হলে সড়কে পিচ্ছিল কাদার সৃষ্টি হয়। সড়ক দিয়ে নামে বৃষ্টির পানি। সড়ক দিয়ে নদীতে পানি নামায় চলাচলে মানুষকে পোহাতে হয় দুর্ভোগ। অতিরিক্ত পানির করণে সড়কের মাটি ভেঙে পড়ছে। তা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে ইট। সে ইটে আটকে পড়ছে বৃষ্টির পানিতে বাজার ধুয়ে আসা নানা ময়লা-আবর্জনা। এমন অবস্থায় নদী পারাপার হওয়া স্থানীয়দের ভোগান্তির শেষ নেই। সড়কের বেহাল দশার কারণে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে মহিলা ও শিশুরা ।

সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কাপাসিয়া খেয়াঘাটে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। চলাচলের জন্য কাদার উপর ফেলা হয়েছে কয়েকটি কলাগাছ। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সাদা প্যাকিং করার ফোমের টুকরো। ঝুঁকি নিয়ে বাঁধ্য হয়ে মানুষ নদী পার হচ্ছে। দক্ষিণ পাশের ঘাটে নদীতে ফেলা হচ্ছে কাপাসিয়া বাজারের মুরগির বিভিন্ন বর্জ্য। সেসব আবর্জনা পানিতে পচে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। একদিকে সড়কের ভোগান্তি অন্যদিকে উৎকট দুর্গন্ধ নিয়ে বাঁধ্য হয়ে মানুষ এ পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। রাতের খেয়াঘাট যেন আরো বেশি ভয়ষ্কর। দক্ষিণ পাশের ঘাটে একটি লাইট ছাড়া নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। অন্ধকারে পা ফসকে পড়ে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের যে কোন দুর্ঘটনা।

খেয়াঘাটের মাঝি রেয়াজ উদ্দিন, কাজল, মজিবুর জানান, ঘাটে ২৫-৩০টি নৌকা আছে। শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে কাপসিয়া থেকে তরগাঁও যেতে জনপ্রতি ভাড়া ৩ টাকা। ঘাট ও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বেশিক্ষণ বসতে চায় না যাত্রীরা। দ্রুত সময়ে নদী পার হতে ৫ টাকা ভাড়াও দিয়ে থাকে তারা।
নদী পার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছেন বরুন গ্রামের মাফুজুল ইসলাম। সাথে তার অসুস্থ মা। তিনি বলেন, ঘাটে নৌকা ভাড়া ছাড়া ৩ টাকা করে দিতে হয়। এ টাকা কেন নেয়? নেই সড়ক, নেই বাতি এমনকি বৃষ্টির পানি নামে এ সড়ক দিয়ে। ইচ্ছা না থাকার পরও এখান দিয়ে যাচ্ছি।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।