মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী চেয়ারম্যান টিপু’র কাছে অসহায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীতে মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী চেয়ারম্যান টিপুকে কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। আবার যে সকল পুলিশ সদস্যরা এই মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারীদের রুখতে দিনরাত পরিশ্রম করছে তাদের নামে হচ্ছে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন ও মিথ্যা অভিযোগ। যা তদন্ত না করেও অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের শাস্তি পেতে হচ্ছে। এ ছাড়াও তাঁর সন্ধানে যাওয়ার ‘অপরাধে’ একাধিক পুলিশ সদস্যকে বদলি হতে হয়েছে। কিছু পুলিশ সদস্য আবার ক্ষোভে স্বেচ্ছায় অন্য জেলায় গেছেন।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যা মতে জানা যায়, রাজশাহী তথা পুরো উত্তরাঞ্চলের মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী চক্রটি নিয়ন্ত্রন করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ রানা টিপু ওরফে টিপু সুলতান। গত বছরের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মাদক কারবারির ৪৩ জনের তালিকার প্রথম নামটি তাঁর। এর পরও তিনি সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান! টিপু চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কটাপাড়া গ্রামের আবু বাক্কারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত সরাসরি চারটি মাদক মামলার তথ্যা পাওয়া গেছে। এক ডজন মাদক চালান ধরা পড়ার পর তাঁর নাম উঠে আসে এবং প্রভাব খাটিয়ে বা টাকা দিয়ে তিনি বরাবরই আড়ালে থেকে যান। তবে গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় তাঁর নাম শীর্ষে রয়েছে। প্রথমে হেরোইন ও ফেনসিডিলের বিক্রেতা হিসেবে মাদক কারবার শুরু করেন টিপু, পরে ইয়াবা হাতে নেন। এখন মাদক ছাড়াও হুন্ডির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে টাকা পাঠিয়ে বিদেশ ফেরতদের মাধ্যমে স্বর্ন চোরাকারবারী চালাচ্ছেন। তাঁর সন্ধানে যাওয়ার ‘অপরাধে’ একাধিক পুলিশ সদস্যকে বদলি হতে হয়েছে। কিছু পুলিশ সদস্য আবার ক্ষোভে স্বেচ্ছায় অন্য জেলায় বদলি নিয়ে চলে গেছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়,গত ১ মাসে বেশ কয়েকটি মাদক ও স্বর্ন চোরাচালান সিন্ডিকেটকে মামলা দিয়েই সমালোচনার মুখে পড়েন রাজশাহী বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। সেই সাথে আসতে থাকে অভিযোগের পর অভিযোগ। যদিও অভিযোগগুলোর বিন্দুমাত্র সত্যতা কিংবা কোন ভিত্তি ছিলনা তারপরও পুলিশকে এই ধারাবাহিক অভিযান থেকে সরাতেও শুরু হয় অভিযোগের ধারাবাহিক প্যাকেজের নাট্যপর্ব।

জানা যায়, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)র ১২থানার মধ্য প্রথম সারিতে রয়েছে বোয়ালিয়া মডেল থানা। আর এ থানাকে আলোচিত ও সমালোচিত করতে অতি উৎসাহী হয়ে উঠেছে মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারীদের একটি সিন্ডিকেট। আর এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ রানা টিপু ওরফে টিপু সুলতান। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ(আরএমপি)র বর্তমান পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক যোগদানের পর পরই মাদক ও কিশোর গ্যাংকে দমন করতে বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নেন। আর এই ধারাবাহিকতায় অভিযান শুরু হলে নড়েচড়ে বসে মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী চক্রের সিন্ডিকেটগুলো। অবশ্য এই মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের মধ্য অনেক নামধারী সাংবাদিক, দূর্নীতিবাজ পুলিশ, ডাক্তার ও কিছু রাজনৈতিক দলের পথভ্রষ্ট নেতারাও যে জড়িয়ে আছেন তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

বোয়ালিয়া থানা সুত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সন্ধা সাড়ে ছয়টার সময় বর্নালীর মোড় এলাকায় গ্রামীন ট্রাভেলস বাস যার নম্বর ঢাকা মেট্রো ব-১৫-২২৫১ পরিবহন থেকে ২ টি স্বর্ণের বারসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আজিজুর ইসলাম (৪০) ও ফারুক হোসেন (৩২) নামে দুইজনকে আটক করেন বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই মতিন আহম্মেদ। তাদের আটক করা থেকে শুরু করে তাদের তথ্যা মতে আটক দুই জনের প্যান্টের ভেতরে (আন্ডার প্যান্টে) লুকানো অবস্থায় দুজনের কাছে দুইটি স্বর্ণেরবার উদ্ধার করা পর্যন্ত থানা পুলিশ ও গ্রামীন ট্রাভেলস কতৃপক্ষসহ বাসের যাত্রীরা ভিডিও করে রাখেন। এর পর শুরু হয় আটকদের মামলা না দেয়ার তদবির। পরের দিন সকাল থেকে দুপর পর্যন্ত প্রায় ১৫বার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী চক্রের সিন্ডিকেট প্রধান শাহিদ রানা টিপু বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই মতিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ফোন দিয়ে স্বর্ণেরবারসহ আসামীদের ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেন। না ছাড়লে এসআই মতিনকে দেখে নেয়ার হুমকিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক,আইজি, ডিআইজির কাছে এসআই মতিনের নামে অভিযোগ করবেন বলে হুমকি দেয় এই মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী চক্রের সিন্ডিকেট প্রধান প্রভাবশালী এই ইউপি চেয়ারম্যান। এমন হুমকির বিষয়ে ওইদিনই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করে ১অক্টোবর কর ফাঁকি দিয়ে সোনা আনায়ন করায় আসামীদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪সালের ২৫বি/১/বি ধারায় মামলা রুজু শেষে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করেন এসআই মতিন আহম্মেদ। এর পর থেকে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্যা দিয়ে মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী চক্রের সিন্ডিকেটের সদস্যরা বোয়ালিয়া থানা পুলিশকে বিপদে ফেলতে চেয়েছিলো। কিন্তু পরিবহন থেকে ২ টি স্বর্ণের বারসহ তাদের আটক করা থেকে শুরু করে তাদের তথ্যা মতে আটক দুই জনের প্যান্টের ভেতরে (আন্ডার প্যান্টে) লুকানো অবস্থায় দুজনের কাছে দুইটি স্বর্ণেরবার উদ্ধার করা পর্যন্ত থানা পুলিশ ও গ্রামীন ট্রাভেলস কতৃপক্ষসহ বাসের যাত্রীদের করে রাখা ভিডিও ও গত ৫অক্টোবর সোমবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকীন হাবীব বাপ্পীর আদালতে আসামীদের ২ টি স্বর্ণের বারসহ তাদের আটক করেছে পুলিশ এমন স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ যাত্রায় বেঁচে যান এই পুলিশ সদস্যরা।

এ ঘটনাতেই থেমে যাননি মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারীরা। গত ১৮/১০/২০২০ ইং তারিখে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ(আরএমপি)র বোয়ালিয়া মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার এসি ফারজিনা নাসরিনের নেতৃত্বে নগরীর গৌরহাঙ্গা মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে ৩০০গ্রাম হেরোইনসহ রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানাধীন মাটিকাটা কলেজ সংলগ্ন উজানপাড়া গ্রামের সাহাবুদ্দীন ইসলাম মন্টুর ছেলে ইসমাঈল হোসেন (৩০) নামে এক মাদক পাচারকারীকে আটক করেন এসআই মতিন আহম্মেদ। মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী চক্রের সিন্ডিকেটের সদস্যরা এই ৩০০ গ্রাম হিরোইন নিয়েও শুরু করে নতুন ধুম্রজাল। অবশ্য বোয়ালিয়া মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার এসি ফারজিনা নাসরিনের বুদ্ধিমত্তায় সংরক্ষিত করা হয়েছিল মাদক উদ্ধার অভিযানের ভিডিওটি। বিধায় এবারও মাদক ও স্বর্ন চোরাকারবারী চক্রের সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্যা দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করিয়েও অনেকটাই হতাশ হয়ে ৩০০ গ্রাম হিরোইনসহ আটক ইসমাইলের স্ত্রীকে দিয়ে রাজশাহী পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি অভিযোগ দেন।

রাজশাহী গোদাগাড়ী থানার ওসি খায়রুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমার জানামতে, রাজশাহী বোয়ালিয়া মডেল থানার কোন টিম গোদাগাড়ী থানা এলাকাতে কোন অভিযান চালায়নি কিংবা কাউকে গ্রেফতারও করেনি। তবে সীমান্তবর্তী থানা হওয়ায় এই এলাকার অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ মাদক ও চোরাচালান ব্যবসার সাথে জড়িত। বিধায় তারা কখন কোন নাটক সাজিয়ে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীকে সমালোচিত করে তা বোঝা বড় মুশকিল।এই জন্য আমাদেরকেও মাদক উদ্ধারের পর অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এডিসি রুহুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বোয়ালিয়া মডেল থানার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী ইসমাইলের স্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন তাও আমরা খতিয়ে দেখছি। তাদের অভিযোগ প্রমানিত হলে দোষি পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেইসাথে পুলিশের কার্যক্রমকে স্থবির করতে কেউ যদি কোন পুর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশের ভাব-মূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালায় তবে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে এক্ষেত্রে কাউকে কোন ছাড়ের প্রশ্নই আসেনা বলে জানান তিনি।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।