চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়াই চলছে পরিবেশদূষণ

পর্ব ০১
ভাটা কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরকারকে ফাঁকি দিচ্ছে
বিস্তারিত থাকছে ৪ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পরিবেশের ক্ষতি করে জ্বালানি হিসেবে কোনরকম কয়লা ছাড়াই সম্পূর্ণ আমগাছের খড়ি দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটা চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের নতুন বাজার ও সুইজগেট এলাকার মুন ভাটা,এম এন এম ভাটা,সান ভাটায় পুরানো হচ্ছে হাজার হাজার মণ কাঠ । সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে লোকালয় ও কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা। ভাটাগুলোতে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।

শ্রমিকেরা জানান, এসব ভাটায় কয়লা ব্যবহার করছে না তারা। তাই সারা বছর কাঠই পোড়াতে হয়। ভাটাগুলোর পাশে রয়েছে ফলের বাগান, কৃষিজমি । আর চারপাশের মধ্যে রয়েছে স্কুল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা। চিমনি দিয়ে কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ে। অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। সান ভাটা, মুন ভাটা, এম এন এম ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে হাজার হাজার মণ আমগাছ।

বিভিন্ন ভাটায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধুমাত্র পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, অন্যদিকে ভাটার চারদিকে মজুদ আছে আরো কয়েক হাজার মণ কাঠ ও খড়ি। ভাটার শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসখানেক আগে এবছর ভাটার সিজন শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই কয়লার বদলে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এইসব ভাটায়। আশেপাশের কিছু ভাটা ইট পোড়ানোর কাজে কয়লা ব্যবহার করলেও এই ভাটাগুলো তা না করে সরকারি নির্দেশনা না মেনে শুধু গাছের খড়ি ব্যবহার করছে ।

কয়লা ব্যবহার না করে কাঠ ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়ম বর্হিভূত স্বীকার করে ভাটার শ্রমিকরা জানান, ভাটায় কয়লা ব্যবহার না করে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ভাটার মালিক আমাদের কাঠ-খড়ি ব্যবহার করতে দিয়েছেন জ্বালানি উৎপাদন করার জন্য। তাছাড়াও কয়লাচালিত ইট ভাটাও অবৈধভাবে চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় ১০০ টির ওপরে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। বিস্তারিত দেখতে চোখ রাখুন পড়ের পর্বে।

 

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।