তালাইমারী ফাঁড়ির ইনচার্জ ও কন্সটেবলের বিরুদ্ধে চোরাই গাড়ী ব্যবহারের অভিযোগ

তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাসুদ রানার ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-গ ১২-৯০৭৬ নম্বরের প্রাইভেট কার।

এহেসান হাবীব : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বিরুদ্ধে মাদকসহ আসামী ধরে ছেড়ে দেয়াসহ নানা অভিযোগের পর এবার চোরাই গাড়ী ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাসুদ রানা ও পুলিশ কন্সটেবল জামিল আহম্মেদের বিরুদ্ধে। কন্সটেবল জামিল দীর্ঘদিন ধরে এই পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন। তিনি প্রাইভেট কার ও পালসার মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। যদিও পরে তিনি প্রাইভেট কারটি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাসুদ রানার কাছে বিক্রি করেছেন। এসআই মাসুদ রানা কারটি এখন ব্যবহার করছেন। জামিল দীর্ঘদিন এক ফাঁড়িতে থাকার সুবাদে সবকিছুই তার চেনা। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারীদের সখ্যতা গড়ে তুলে হাতিয়ে নিচ্ছেন অর্থ এমন অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। তারপরও এই কন্সটেবল সেই ফাঁড়িতেই কর্মরত রয়েছেন। ফাঁড়ির ইনচার্জের সাথে সখ্যতা তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে।

তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ কন্সটেবল জামিল আহম্মেদের ঢাকা মেট্রো-হ ১৪-৭৩৫৩ নম্বরের পালসার মোটরসাইকেল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশের নথি অনুযায়ী এসআই মাসুদ রানার নিজ জেলা সিলেট। এসএসসি পাশ করে ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেমবর চাকুরীতে যোগদান করেন। বিপি নং-৮৬০০০০২৩৩৩। আরএমপিতে যোগদান করেন ২০১৩ সালের পহেলা জানুয়ারীতে। বর্তমান কর্মস্থল তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়িতে ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারী। আরএমপিত বোয়ালিয়া মডেল থানায় থাকাকালিন সময়ে তিনি শিল্পনগর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করেন।এদিকে তার নিজ জেলা লালমনিরহাট জেলা বলে জানালে পুলিশে চাকুরীর নথিতে তার বাড়ি সিলেট বলে উল্লেখ থাকা নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদানের পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন এসআই মাসুদ রানা। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা তৈরি করে মাদকব্যাবসায়ীদের মাদকদ্রব্য পাচারের লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত থেকে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমান অর্থ। শুধু তাই নয় তার ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-গ ১২-৯০৭৬ নম্বরের প্রাইভেট কারে করে মাদকপাচারের সময় ভদ্রা নতুন ফ্লাই ওভারের পাশে কয়েকজন সাংবাদিকদের রোষানলে পড়েছেন এই মাদকদ্রব্য পাচারকারী এস আই মাসুদ। পরে অনেক বাকবিতন্ডা শেষে কন্সটেবল জামিলসহ কয়েকজন পুলিশের সহযোগিতায় সেখানথেকে সটকে পড়েন এস আই মাসুদ।

তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাসুদ রানার ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-গ ১২-৯০৭৬ নম্বরের প্রাইভেট কার। সাথে লাল চিন্হে এসআই মাসুদ রানা ও সবুজ চিন্হে পুলিশ কন্সটেবল জামিল আহম্মেদ।

এছাড়াও কিছুদিন আগে এসআই মাসুদ রানার বিরুদ্ধে নগরীর ভদ্রা জামালপুর এলাকা থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ হবি নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে অর্থের বিনিময়ে মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্য অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, ২৭ নভেম্বর নগরীর ভদ্রা জামালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হবি নামের গাঁজা ব্যবসায়ীকে আটক করে তালাইমারী ফাঁড়ির এএসআই মুকুল ও কনষ্টবল জামিল। কিন্তু মামলা না দিয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদ রানা ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে আসামীকে ছেড়ে দেয় এবং গাঁজা বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এদিকে বিআরটিতে এসআই মাসুদ রানার ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-গ ১২-৯০৭৬ নম্বরের প্রাইভেট গাড়ীর মূল মালিক কে তা জানার জন্য চেষ্টা করা হলে সার্ভারে এই নম্বর নেই। অথচ তিনি জানিয়েছেন, গাড়ীটি তিনি কিনে নিয়েছেন। যদি গাড়ী কেনেন তাহলে সেই গাড়ীর নম্বর সার্ভারে নেই কেন এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে? তাহলে গাড়ীটি কি চোরাই নাকি অন্য কারো। সূত্র বলছে, এই প্রাইভেট করে করে মাদক ব্যবসায়ীদের হয়ে মাদক বহন করা হয়। তদন্ত ও নজরদারি করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসতে আসবে।

অন্যদিকে তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির কন্সটেবল জামিল আহম্মেদ ঢাকা মেট্রো-হ ১৪-৭৩৫৩ নম্বরের একটি পালসার মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। এটি তিনি কিনেছেন বলে প্রচার করলেও কার কাছে আর কত টাকায় কিনেছেন তা তিনি জানাতে পারেননি। বিআরটিএতে এই গাড়ী নম্বরের গাড়ীর মূল মালিক কে তা জানার জন্য চেষ্টা করা হয়। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী এই গাড়ীতে ব্যবহৃত নম্বরটি একটি হিরো হোন্ডা লাল মডেলের মোটরসাইকেলের নম্বর। অথচ তিনি এটি পালসার মোটরসাইকেলে ব্যবহার করছেন। হিরো মোটরসাইকেলের নম্বর পালসারে এটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি নম্বরটি একটি কোম্পানীর নামে রেজিস্ট্রেশন করা।

তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সত্য নয়। আমি প্রাইভেট কারটি কন্সটেবল জামিলের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকায় কিনেছি। প্রাইভেট কারটি এখন আমার। এসআই মাসুদ রানা নিজের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ থানায় বলে স্বীকার করেছেন। কিন্ত চাকুরীর নথিতে তার বাড়ি সিলেট বলে উল্লেখ রয়েছে। যার অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সিরাজুম মনিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কে কি ব্যবহার করছে এটাতো আমার দেখার দায়িত্ব না। যদি সে কোন ক্রাইম বা ফৌজদারি অপরাধ করে তাহলে আমার দেখার দায়িত্ব।

তবে অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অধিনস্থ কেউ যদি অপরাধ করে তাহলে গোপন প্রতিবেদন দেয়া যেতে পারে। ডব্লিউ সি আর (উইকলি কনফেডেন্সিয়াল রিপোর্ট) এর মাধ্যমে সাপ্তাহিক গোপনীয় প্রতিবেদন দেওয়া যেতে পারে। অফিসার এ কথা বলতে পারবেনা। আমার কিছু করার নেই এমন কথা বলা যাবেনা। এমন রিপোর্ট দিলে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।