ডাক্তার ইকবাল কাসেম ও তার বোন ডাক্তার নাসরিন ইয়াসমীনের বিরুদ্ধে নকল ওয়ারিশন সনদ ব্যবহার করে প্লট ও অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার অভিযোগ

রাজশাহীতে দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহী নগরীতে কর্মরত ডাক্তার ইকবাল কাসেম ও তার বোন ডাক্তার নাসরিন ইয়াসমীনের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ও বর্ণনা প্রদান পূর্বক নকল ওয়ারিশন সনদ ব্যবহার করে মরহুম বাবার নামীয় প্লট ও অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ডাক্তার ইকবাল কাসেম কর্মরত আছেন নগরীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ডাক্তার নাসরিন ইয়াসমীন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে এমডি কোর্স সম্পন্ন করছেন। সম্পর্কে তারা ভাই বোন। প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বড় বোন শাহানাজ কাসেমকে পৈত্রিক সম্পত্তির অংশীদারিত্ব থেকে কৌশলে বঞ্চিত করে অভিযুক্ত ইকবাল ও নাসরিন তাদের বাবার নামীয় সকল সম্পদ হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া বড় বোন শাহানাজ কাসেম গত ১-৯-২০২০ ইং তারিখে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া ছোট দুই ভাই বোনের বিরুদ্ধে রাজশাহীর বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এ একটি প্রতারণার মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে রাজপাড়া থানাকে মামলার বিষয়বলী তদন্তের আদেশ দেন। থানা কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়মে তদন্ত শেষে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা পেলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোতালেব হোসেন চার্জশীট প্রদান করেন। এবং পরবর্তীতে এজাহারটি রাজশাহীর বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এ দন্ডবিধি আইনের ১৯৩/১৯৮/৪০৬/৪২০/৪৬৫/৪৬৭/৪৭১/৩৪ ও ৪৬৮ ধারাতে একটি মামলা রুজু হয়। যার মামলা নং ০২/২৮৭।

রাসিকের ৫ নং কাউন্সিলের কার্যালয় থেকে ওয়ারিশন সনদ ও পরবর্তীতে সেটি বৈধ সনদ হিসেবে ব্যবহার করে কৌশলে মায়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ পূর্বক রাজশাহীর বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ও ডেলিগেট আদালতে অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা বর্ণনা প্রদান পূর্বক প্রতারণামূলক ভাবে সাকসেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বড় বোন শাহানাজ কাসেমকে তার অংশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও বাবা-মা’র রেখে যাওয়া অন্যান্য অর্থ-সম্পদ থেকে বিতারিত করার অপচেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শাহানাজ কাসেমের। বিষয়টি জানাজানি হবার পরে ভুক্তভোগী ও পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া বড় বোন শাহানাজ কাসেম গত ১-৯-২০২০ ইং তারিখে উভয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মিথ্যা তথ্য প্রদান পূর্বক তিন ভাই বোন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র অভিযুক্ত দুই ভাই বোনের নামে ওয়ারিশন সার্টিফিকেট নেবার বিষয়টি রাসিকের ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু স্বীকার করেন।

বাদীনির দেওয়া তথ্য, এজাহার ও মামলার কপি থেকে জানাগেছে যে, নগরীর রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মরহুম ডাঃ আবুল কাশেম ও মরহুমা নূরমহল খাতুনের দুই মেয়ে এক ছেলে। বাদীনি শাহানাজ কাসেম তাদের বড় মেয়ে। ডাঃ আবুল কাশেম গত ১৬-৫-২০০৮ তারিখ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর গত ০৪-০৩-২০০৯ ইং তারিখে অভিযুক্ত ডাক্তার ইকবাল কাসেম ও তার আরেক বোন ডাক্তার নাসরিন ইয়াসমীন উভয়ের যোগসাজসে বাদীর পৈত্রিক সম্পত্তি ও বিভিন্ন ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলক ভাবে তাদের বড় শাহনাজ কাসেমকে না জানিয়ে রাসিকের ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে মিথ্যা তথ্য প্রদান পূর্বক শুধুমাত্র এক কণ্যা, এক পুত্র ও মাতা নূরমহল খাতুনকে অংশীদার দেখিয়ে একটি জাল, ভূয়া ও অবৈধ ওয়ারিশন সনদ গ্রহণ করেন। এক নং আসামী ডাক্তার ইকবাল কাসেম বিজ্ঞ আদালতে প্রতারণামূলক ভাবে মিথ্যা জবানবন্দী ও এফিডেভিট প্রদান করে বাদীর অজ্ঞাতে সাকসেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে উক্ত সাকসেশন সার্টিফিকেট মিথ্যা জ্ঞাত হওয়া সত্বেও সেটি ব্যবহার করে অভিযুক্তরা বৃদ্ধা মাকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ভুল বুঝিয়ে কৌশলে মায়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে আইসিবি সিকিউরিটি ট্রেডিং কোম্পানী লিমিটেডের ১৩ হাজার নয়শটি শেয়ার, যার ফেস ভ্যালু ৫০ হাজার, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা ও বাদীর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত অংশ আত্মসাৎ করিয়া নিজেদের নামে করে নেন। এছাড়াও বাবার নামীয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর সম্প্রসারিত উত্তরা ৩য় পর্ব আবাসিক এলাকার ১৭-জি ১নং সেক্টরের ৬ নং রাস্তার প্লটটির যাবতীয় নথিপত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারী করণের জন্য মিথ্যা বর্ণনার একটি অঙ্গিকারনামা প্রদানসহ দরখাস্ত করেন এবং গত ৩০-৮-২০১২ ইং তারিখে রাজউক হতে আসামীদ্বয় ও তাহাদের মাতা নূরমহল খাতুনের নামে উক্ত প্লটটি বরাদ্দ নেন।

গত ৩০-৬-২০২০ ইং তারিখে শাহনাজ পারভিন ও আসামিদ্বয়ের মাতা নূরমহল খাতুন মৃত্যুবরণ করার পর অভিযুক্তরা মায়ের নামে থাকা অবশিষ্ট সম্পত্তি ও ব্যাংকের নগদ অর্থ হাতিয়ে নেবার হীন উদ্দেশ্যে পূর্বের ন্যায় আবারো রাসিকের ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল কার্যালয়ে ওয়ারিশন সার্টিফিকেট নেবার আশায় বড় বোন ও মামলার বাদীনি শাহানাজ কাসেমকে বাদ দিয়ে একটি আবেদন করেন। বিষয়টি জানাজানি হয়েগেলে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া বড় বোন শাহানাজ কাসেম যথাযথ নিয়মে উভয়ের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। ডাক্তার ইকবাল কাসেম ও তার বোন ডাক্তার নাসরিন ইয়াসমীন উক্ত মামলার অগ্রীম জামিন নিয়ে মামলা তুলে নেবার জন্য বাদীনিকে নানা পন্থাবলম্বনে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী শাহানাজ কাসেমের।

 

 

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।