গোপালপুরে ছিনতাইকালে ৫ পুলিশ সদস্য

গণপিটুনির শিকার হলেও পুলিশের দাবি ভুল বোঝাবুঝি

মুক্তার হাসানঃ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের চাতুটিয়া গ্রামে এক গরু ব্যবসায়ির টাকা ছিনতাইকালে গণপিটুনির শিকার হন ৫ পুলিশ সদস্য। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় এ ঘটনাটি ঘটে। তবে এলাকাবাসির দাবি ছিনতাইকালে গণপিটুনির শিকার হন সাদা পোশাকধারি ওই ৫ পুলিশ সদস্য হলে এ ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করছে থানা পুলিশ।
ঘটনাস্থল চাতুটিয়া গ্রামের আফজাল, মজিবর ও সুভলা বেগমসহ অসংখ্য এলাকাবাসির অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই উপজেলা পুলিশের কয়েকটি দল সিএনজি নিয়ে এলাকায় অভিযান চালানোর নামে যুবক ও তরুণ ছেলেদের আটক করে তল্লাসি চালায়। তল্লাসিকালে বেশির ভাগ সময় ওই যুবকদের পকেটে ইয়াবা অথবা গাঁজা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করেন ওই পুলিশ সদস্যরা। এরই সুত্র ধরে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গোপালপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলীর নেতৃত্বে ৫ পুলিশ সদস্য এক গরু ব্যবসায়িকে আটক করে তল্লাসি চালিয়ে ওই ব্যবসায়ির কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ছিনতাই করে। ছিনতাই শেষে সিএনজি নিয়ে পালানোর সময় ডাক চিৎকার করতে থাকে ওই গরু ব্যবসায়ি। এ সময় স্থানীয়রা সিএনজিটি আটক করে পুলিশের সাদা পোশাকধারি ওই ৫ সদস্যকে গণপিটুনি দেয় ও ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার করে। এ গণপিটুনি থেকে রক্ষা পেতে ওই ৫ পুলিশ দৌড়ে হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার জয়নালের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পুলিশের উপর গণধোলাইয়ের সংবাদ পেয়ে গোপালপুর থানা পুলিশ ওই ৫ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে থানা নিয়ে যায়। পুলিশ সদস্য আটক ও মারধর করার ক্ষোভে এ সময় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ভাংচুর চালায়। এ নিয়ে চরম আতংকে রয়েছে এলাকাবাসি। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জসহ প্রায় ২০ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করে সাধারণ মানুষের বক্তব্য আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই সাংবাদিকদের কাছে ছিনতাইকালে ওই ৫ পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি দেয়াসহ সত্য ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তবে গণপিটুনির শিকার ওই ৫ পুলিশ সদস্যকে গ্রামবাসির হাত থেকে রক্ষা করা হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার জয়নাল ও তার ছোট ভাই নওজেস আলী ঘটনাটি সত্য বলেও নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় সিএনজি শ্রমিক নেতা জানান, গণপিটুনির শিকার এস আই আশরাফ এ ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য মাসিক চুক্তিতে একটি সিএনজি ভাড়া রেখেছেন। এ সময় তিনি আরো জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রামের অনেক বৃদ্ধ ব্যক্তিকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
তবে ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটানোসহ গণপিটুনির শিকার হওয়া ওই ৫ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন রূপ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে থানা পুলিশ ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার পায়তারা চালানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই গ্রামবাসি। পুলিশের ভাবমুর্তি রক্ষায় ছিনতাইয়ের মত অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের পুলিশ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ এর ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার সাগর আলী ছিনতাইকালে সাদা পোশাকধারি ৫ পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি দিয়েছে গ্রামবাসি স্বীকার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন ছিনতাইকালে কোন পুলিশ সদস্য জনগণের হাতে আটক বা গণপিটুনির শিকার হয়নি দাবি করেছেন। তবে এ সময় গ্রামবাসির সাথে ওই পুলিশ সদস্যদের কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।