জলমহালে জঙ্গি সম্পৃক্ততা থাকলেই জলমহাল ইজারা বাতিল : ভূমিমন্ত্রী

ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেছেন, সরকারি জলমহাল ইজারা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক জলমহাল ইজারা বাতিল ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি, ২০০৯ সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় কমিটিতে পর্যালোচনা ও পরীক্ষার নিমিত্ত জাতীয় জলমহাল কমিটির সভায় সভপতির বক্তব্যে সংশ্লিষ্টদের ভূমিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি, ২০০৯ এর মোট অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৩৬। এর মধ্যে ২১টি অনুচ্ছেদ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১৪টি অনুচ্ছেদে সংযোজন, সংশোধন ও বিয়োজন করা হবে। ভূমি সচিব আবদুল জলিল সংযোজন, সংশোধন বিয়োজনের অংশবিশেষ সভায় পাঠ করে শোনান। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জলমহাল) আকরাম হোসেন কার্যপত্র পাঠ করেন। অনুচ্ছেদের বিভিন্ন অংশে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, প্রকৃত মৎস্যজীবী কথাটির সাথে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নিবন্ধিত ও কার্ডধারীদের কথাগুলো সংযোজিত হবে। এছাড়া ইজারাকৃত জলমহাল যেমন হাওর, বাওড়, জলাশয় ইত্যাদির শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, সব মন্ত্রণালয়ই জনস্বার্থে কাজ করে থাকে। সুন্দরবনে মাছ ও অন্যান্য প্রাণী নিধন হচ্ছে। বিষটোপ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। জলদস্যু, বনদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বনবিভাগকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার পরামর্শ দেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।

সভায় ইজারা মূল্যের জামানত ৩০ শতাংশের বেশি না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বারোপ করা হয়। ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এ প্রসঙ্গে বলেন, জলমহাল ইজারা বন্দোবস্ত প্রকৃত মৎস্যজীবী সমিতির অনুকূলে হয়ে থাকে, তাই ইজারা বেশি দেওয়ার প্রবণতা এখানে মোটেও কাম্য না। ইজারা মূল্যের জামানত বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় থাকে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বা মুনাফালোভী ব্যক্তি। মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘জাল যার জলা তার’ ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মৎস্যজীবীদের আর্থিক উন্নয়নের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সভায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, সামগ্রিকভাবে টীম ওয়ার্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি, ২০০৯ এর উপর আনীত ১৪টি বিষয়ের সংশোধনী অংশ দ্রুত মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

জাতীয় জলমহাল কমিটির সভা ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এম.পি.’র সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ভূমি সচিব আবদুল জলিল, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোশারফ হোসেন, মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. নজরুল আনোয়ার, ভূমিমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব আক্তার হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব লায়লা জেস্মিন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ.বি.এম. রুহুল আজাদ, ভূমিমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মজিবর রহমান ও কামরুল হাসান ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।