জীবনের ছুটি নেই । জব্বার আল নাঈম

অনেক দূরে বিল। বিলের এপাশ থেকে ওপাশের কিছু দেখা যায় না। সামনে কোথাও যেনো আকাশ নেমে গেছে। ভাবি, কৌতূহলে দৌড়ে গেলেই ছোঁয়া সম্ভব! ইচ্ছে হলেই সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে উপরে ওঠা যাবে। অথচ তা কখনই হয়ে ওঠে না। আশপাশেও দেখা যায় না জীবনের অস্তিত্ব। তবে, অনেক দূরে বিলের অন্য মাথায় ছোট একটি গাছের মতো দেখা যাচ্ছে। সেটা গাছ নাও হতে পারে। রোদের প্রতাপকে প্রতিবাদ জানিয়ে দূরের গাছ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। কালের সাক্ষী কিনা তাও জানা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

প্রচণ্ড শরীরে সমস্ত সূর্য মেখে তার উপর নদীর জল ঢেলে, নিজের কাছে নিজেকে ছেড়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া। মাথায় তখনও বারোয়ারি ভাবনারা কিলবিল করছে পৃথিবীর বাইরে। জীবন্ত মরুভূমির আকৃতি যেনো! না হয় পথে তৃষ্ণা মেটানোর জল থাকবে না কেন?

প্রেমের কলঙ্ক গলায় লেপ্টানো আছে। টানতে হচ্ছে মায়ের মুখের চির সত্য ভবিষৎবাণী। মনের অলিগলির সেই সত্য কেউ টানতে পারছে না। আমার অবাধ্যতা সহ্য করতে না পেরে বাবা আগেই পরপারের সওদাগর হয়েছেন। অসহায়গ্রস্ত জীবন সাজাতে জ্বলন্ত কয়লা হাতে হেঁটেছি কতো কতো রাস্তা! হাজার মাইলের পানিপথ। সেখানেও চরম রকমের ক্রোধ জমা। ক্রোধের গায়ে আগুনের নগ্ন নৃত্যের আসর বসে রোজ।

শুনেছি জলের হাত-পা, চোখ-মুখ এবং শ্বাস-প্রশ্বাস আছে। নারীর মতো দেখতে সুশ্রী, সুন্দর। তুলতুলে হাত, টলটলে দেহ, সুডৌল যুগলস্তন। আবেগপ্রবণ মায়া আমার নিষ্কাম মস্তিষ্কে লোভের ব্যাকরণ মুখস্ত করায়। নিরূপায় আমি গলতে থাকি হাতের উপর হাত রেখে। সূর্যের তাপে। চোখের ভেতর অপ্রকাশিত চোখের ভাষা। কিছুটা আবেগ। কিছুটা আবেশ। নিশ্চিত মূর্খতায়। বোকাগলির অন্ধ পথে হাঁটতে হাঁটতে চালাক হওয়ার সৌভাগ্য হলো না আর!

ভালোবাসতে বাসতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক অধ্যায় ভুলে বসেছি। কোনো কালে ব্লেইসি প্যাসকেলের ক্যালকুলেটরেও তা ধরবে না। একদা মোহের ছলাকলায় নিঃস্বার্থ কলমে লিখে নিয়েছিলাম তোমার নাম। মাটিকে কাগজ বানিয়ে। ফলস্বরূপ জিকির বনে বসে

সূত্রঃ বাংলা নিউজ

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।