টাঙ্গাইলে ৩ মাস পর ধর্ষিতার লাশ উত্তোলন

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ৩ মাস ৪ দিন পর অপহরনের পর দফায়-দফায় ধর্ষণ ও শারিরীক নির্যাতনে গৃহবধু কাকলি বেগম (২৩) মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ও ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা সিদ্দিকার নেত্বত্বে উপজেলার বানিয়াজান ইউানয়নের চুনিয়া পটল গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে কাকলীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যসহ শতশত এলাকাবাসী, সাংবাদিক, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নিজেরা করি ও ভূমিহীন সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার চুনিয়া পটল গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে কাকলি বেগমের পার্শ্ববর্তী বলদিআটা গ্রামের শাহজান আলীর ছেলে লিটন মিয়ার সাথে ২৮/৫/২০১৩ ইং তারিখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পর ভালোই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী বাড়ীর ছাহের আলীর ছেলে রেজাউল হক (৩০) মাঝে মধ্যেই কাকলি বেগমকে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে। এতে রাজি না হলে রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়ে এক পর্যায়ে গত ১৩ জানুয়ারী শনিবার সন্ধ্যায় কাকলি বেগম স্বামীর বাড়ী থেকে বাবার বাড়ী যাওয়া পথে গৈরাং নামকস্থানে আরো ৭/৮ জন দুর্বৃত্তকে সাথে নিয়ে জোর পূর্বক একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পর অজ্ঞাতস্থানে রেখে তাকে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে দফায়-দফায় ধর্ষণ করতে থাকে। এভাবে দীর্ঘদিন পৈশাচিক, শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে কাকলি বেগম নিস্তেজ হয়ে পড়লে মৃত ভেবে গত ৪ এপ্রিল বুধবার রাতে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে তার বাড়ীর পাশে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে যায়। এমতাবস্থায় এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।
এ ঘটনার পরপরই ধনবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে প্রভাবশালী রেজাউল গংদের চাপে রহস্যজনক কারণে মামলা নেননি। ফলে বাধ্য হয়ে নিহতের মা হেলেনা বেগম টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলা নং- ১৫৯/২০১৮।
এদিকে ন্যাক্কারজনক এ ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি মেম্বার শাজহান ওরফে কহিনুরের নেতৃত্বে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকায় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। মামলার বাদী হেলেনা বেগমকে মামলা প্রত্যাহরের হুমকী দেয়া হয়। তা না হলে তাকেও তার মেয়ের মতো অবস্থা করা হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।