নির্বাচনে আসছেন লতিফ সিদ্দিকী

মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে তিনি এ নির্বাচন করবেন বলে তার একাধিক নিশ্চিত করেছে।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ভাতিজা ও গণবিপ্লব পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী জানান, কালিহাতী উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া মহল্লায় তার গণভিত্তি ও সর্বোচ্চ সমর্থক রয়েছে।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এখনও তাকে চান। এ বিপুল সংখ্যক সমর্থকের দাবির মুখে এ আসনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত সমর্থন মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়ারও বিধান রয়েছে। এ বিধাননুসারে লতিফ সিদ্দিকীর জন্য ভোটারদের সেই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ চলছে। আগামী রোববার (২৫ নভেম্বর) লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতীতে এসে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেবেন বলেও জানান মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ওপর লতিফ সিদ্দিকীর প্রভাব রয়েছে। সাবেক এই মন্ত্রীর নিজ এলাকায় জনপ্রিয়। এ আসনে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী যে প্রতীক নিয়েই আসুক না কেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বীর ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মহাজোট সরকারে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্যও হন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টাঙ্গাইল-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে হজ, তাবলিগ জামাত সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করে দেশ ও বিদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বোচ্চ সমালোচিত হন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

এ কারণে ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। এ অভিযোগেই তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণও করেন। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। কারাগার থেকে মুক্ত হয়েই তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনটি শূন্য হয়।

২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে হাসান ইমাম খান সাংসদ হন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলার একাধিক নেতা জানান, এবারের নির্বাচনেও হাসান ইমাম খান এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন। হাসান ইমাম খানের সঙ্গে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের দূরত্ব রয়েছে বলে জানা যায়। তাঁরা সাংসদের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলের নেতাদের কাছে দাবি জানান।

এবার এ আসন থেকে বর্তমান সাংসদ ছাড়াও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু নাসের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য লিয়াকত আলী এবং জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সোলায়মান হাসান মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।