আর কতো লাশ চায় প্রসীত খীসা?

পাহাড়ে ৩দিনে নিহত ২

পার্বত্য চট্রগ্রামে একের পর এক পড়ছে লাশ। আতংকিত পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের নিরীহ ও অসহায় মানুষ। ৩দিনে নিহত দুই পাহাড়ি, আহত আরো দুই জন। ইউপিডিএফ এর নেতা প্রসীত বিকাশ খীসার মিটছে রক্তের পিপাসা। যার কারণে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার আনন্দ থেকে বঞ্চিক সাধারণ জনগন।

জানাযায়, রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন , ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের গুলিতে জঙ্গলী চাকমা (৩২) নামের একজন নিহত এবং সুমতী চাকমা (৩০) নামের একজন গুরুতর আহত। গত শুক্রবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দোসরপাড়া স্টীল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অপর দিকে একই দিন মহালছড়িতে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গুলিতে হামলায় তুফান চাকমা (৩৫) নামে এক ফুটবল দর্শক গুরুর আহত হয়। গত শুক্রবার রাঁত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার উল্টাছড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত তুফান চাকমার উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানান, ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা চালিয়েছে এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চারটি গুলি লেগেছিল। এছাড়া সর্ব শেষ শনিবার (১৬ই জুন) দুপুর ২টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার পদনীপাড়া এলাকায় ইউনাইট্রে পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের হামলায় জন সংহতি সমিতি জেএসএস (এমএন লারমা গ্রুপ)‘র কালেক্টর বিজয় ত্রিপুরা (৩৫) নিহত হয়েছে। সে মাটিরাঙ্গা উপজেলা গুমতি ইউনিয়নের বাসিন্দা। প্রসঙ্গত, পার্বত্য চুক্তির পর বিগত দুই দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস ভেঙে চারটি হয়েছে। এগুলো হলো— পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), যা পার্বত্য চুক্তির আগে একমাত্র সংগঠন ছিল।

১৯৯৭ সালে চুক্তির পর কৌশলগত কারণে তারা ভেঙে দুই ভাগ হয়। ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন চাই’ স্লোগান নিয়ে জন্ম নেয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। পরে ২০১০ সালের এপ্রিলে অর্থ ও ক্ষমতার দন্ধে ভাঙনের কবলে পড়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস। জন্ম নেয় জেএসএস (এমএন লারমা গ্রুপ)। আর গঠনের ১৯ বছরের মাথায় এসে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ভাঙনের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ। ফলে চতুর্থ সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ, যা ‘ইউপিডিএফ সংস্কার’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে এই সকল ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তাই অতিদ্রুত পাহাড়ে ব্যপক হারে যৌথ বাহিনীর চিরনী অভিযান পরিচালনার দাবী জানিয়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।