কালিহাতীতে ফেরীওয়ালা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ’র অভিযোগ

 

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ফেরীওয়ালাকে দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে একটি সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অক্ষর জ্ঞানহীন ওই ফেরীওয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম আজাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ’র অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , উপজেলার সলিল গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই গ্রামের ইসরাইল নামে এক ব্যক্তিকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। যিনি পেশায় ফেরিওয়ালা। দেশের বিভিন্ন জেলায় ফেরী করে শাড়ি কাপড় বিক্রী করেন। ওই সভাপতি নিজের নামটিও লিখতে জানে না। এই সুযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম আজাদ স্কুল মেরামত করার জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা কোন কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছেন।
ওই এলাকার কলেজ ছাত্র মাইদুল ইসলাম জানায়, এলাকায় অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি থাকা স্বত্বেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন কি কারণে একজন নিরক্ষর ব্যক্তি, যিনি এলাকায় থাকেন না তাকে গ্রামের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে সভাপতি করা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, আমরা বিদ্যালয়টির সভাপতি হিসেবে চেয়েছিলাম বারবার নির্বাচিত গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুলতান মাহমুদকে। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের সাথে তাঁর রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকার কারণে সুযোগ বুজে একজন নিরক্ষর ব্যক্তিকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন করিয়ে আনেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সভাপতি এখন পর্যন্ত কোন মিটিং করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য। এই সুযোগ বুজে স্কুলে সরকারি কোন বরাদ্ধ আসলে প্রধান শিক্ষক তা আত্মসাৎ করেন। কেউ কাজের কথা জানতে চাইলে তিনি তখন ভূয়া ভাউচার দেখিয়ে বলেন কাজ করা হয়েছে এই যে তার প্রমাণ। অথচ ভাউচারে উল্লেখ করা ঠিকানায় যোগাযোগ করা হলে স্কুলে কাজ করার জন্য কোন মালামাল সেখান থেকে নেওয়া হয়নি বলে জানান দোকানের মালিকরা।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ইসরাইল জানান, আমাকে প্রধান শিক্ষক সভাপতি বানিয়েছেন। স্কুল মেরামতের টাকার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ভাল বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক একেএম আজাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতেই সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে তিনি পড়াশোনা জানেন না। স্কুল মেরামতের টাকার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন বরাদ্ধকৃত অর্থের যথাযথ কাজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ গঠনে অনিয়ম বা বিদ্যালয়ের ভবন মেরামতে দূর্নীতির বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি খুব শীগ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ শাহিনা আক্তার বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়ম ও প্রধান শিক্ষকের অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।