ফুলবাড়ীতে ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে টাকা নেয়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ


কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় সরকারি নীতিমালা ও হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোপনে নিয়োগ পক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিগণ গত ৮ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক, ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অনুলিপি প্রদান করেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার ১৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য গত ২০/০২/১৮ ইং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকগণকে ডাকেন। সেদিন বিকেলে সবাই মিটিংয়ে উপস্থিত থাকলেও নিয়োগের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় নাই এবং পরবর্তীতে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে বলে সবাইকে বিদায় দেন। কিন্তু আর কোন মিটিং আহবান না করেই গত ২২/০২/১৮ইং তারিখে গোপনে ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি গঠনকৃত নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ০১/০৩/১৮ইং তারিখে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। নতুন করে কোন আবেদন গ্রহন না করেই ২০১৫ সালে হাইকোর্টের স্থগিত করা নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনের ভিত্তিতেই নিয়োগ সম্পন্ন করে নিয়োগপত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
এ অবস্থায় কলমদার টারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল (মুক্তিযোদ্ধা) গত ২৮/০২/১৮ইং মহামান্য হাইকোর্টে নিয়োগ বন্ধের জন্য রীট পিটিশন দাখিল করেন যাহার নাম্বার-৩৪৪৭/২০১৮ইং। উক্ত রীটের ফটোকপি আবেদনের সহিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর নিয়োগ বন্ধের আবেদনসহ দাখিল করে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র গ্রহন করা স্বত্বেও উক্ত তারিখে প্রার্থী বরাবর প্রবেশ পত্র প্রেরন করেন। পরে গত ০১/০৩/১৮ইং তারিখে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগ কমিটির সচিব হিসেবে ১৬ জনের নিয়োগ পত্র প্রার্থী বরাবর প্রেরন করেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণকে উক্ত নিয়োগ প্রাপ্তদেরকে যোগদান করে নেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে গত ০৫/০৩/১৮ইং মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশনের শুনানী অনুষ্ঠিত হলে রুল নিশি জারি করেন। উক্ত রুল নিশির কপি মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মিরপুর-২, ঢাকা বরাবর আবেদনের সাথে দাখিল করা হয়। উক্ত রুল নিশির কপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে এক কপি করে ই-মেইলে প্রেরন করেন। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে গত ০১/০৩/১৮ইং নিজেই নিয়োগ পত্র প্রদান করার পরও গত ০৮/০৩/১৮ইং উক্ত নিয়োগ পত্রের বিপরীতে আরও একটি নিয়োগ পত্র তৈরি করে নিয়োগকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বাক্ষর করার জন্য প্রেরন করেন এবং প্রধান শিক্ষকগণের উপর চাপ প্রেয়োগ করেন। প্রধান শিক্ষকগণ বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিগণকে অবহিত করলে তারা জেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবগত করেন।
এব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আবু ছালেক জানান, নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ ও বাছাই কমিটিতে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির(ম্যানেজিং কমিঠি) সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী প্রার্থীদের আবেদন সভাপতির নিকট জমা হওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাতের আধারে বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। আমরা তদন্ত পুর্বক নিয়োগ স্থগিতের দাবী জানাচ্ছি।
ফুলবাড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের কাজ চলছে। নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে নিজেই নিয়োগ পত্র প্রদান করে তা বাতিলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী নিয়োগ প্রক্রিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী যখন জানতে পারি নিয়োগ কর্তা প্রধান শিক্ষক তখন আমার দেয়া নিয়োগপত্র বাতিল করে প্রধান শিক্ষকগণকে নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য চিঠি প্রদান করি। আর হাইকোর্টের রুল সম্পর্কে তিনি বলেন, যারা রীট পিটিশন দাখিল করেছে তারা নিয়োগের উপর নয় একটি চিঠির উপর রীট পিটিশন করেছে। রুল নিশি জারির বিষয়ে তিনি বলেন, একটি চিঠি পেয়েছি যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রদান করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কোন টাকা পয়সার লেনদন হয়নি। যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই এসব অভিযোগ করছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, আমি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা রয়েছে। হাইকোর্টের মামলার নির্দেশনার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। নিয়োগের আইনগত বিষয়াদি পর্যবেক্ষন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।