ভাঙ্গুড়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ফেরদৌসী খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের ছোটবিশাকোল গ্রামে এঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এঘটনায় শুক্রবার রাতে ফেরদৌসী ছোট বোন বিথী বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত ফেরদৌসী ওই গ্রামের আমির প্রামানিকের মেয়ে ও রাজশাহী জেলার মহনপুর উপজেলার হাটরা ফরিদপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ছোটবিশাকোল গ্রামে আমির প্রামানিকের বসতবাড়ির যাতায়াত রাস্তার বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী তোফাজ্জল হাজীর সঙ্গে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিলো। এ নিয়েও স্থানীয় ভাবে নিষ্পত্তির জন্য এলাকার চেয়ারম্যানসহ গ্রাম্য প্রধানগণ কয়েকবার শালিস বৈঠক করে। পরে বৈঠক না মেনে হাজীসহ তার পরিবারের অন্যান্যরা চাপ প্রয়োগ করতে থাকে ওই পরিবারকে।

গত শুক্রবার সকালে আমির প্রামানিকের বসতবাড়ির পাশে খড়ের পালা দেওয়ার সময় হাজীর একটি বাঁশের ঝাড়ে বেঝে যায়। পরে তারা গ্রাম্য প্রধানগণের উপস্থিতিতে ওই ঝাড়ের কয়েকটি হেলে পরা বাঁশের মাথা কেটে দেয়। পরে বিকেল সাড়ে চারটায় হাজী ও তার ছেলে মুক্তি আমির প্রামানিকের বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং আমির প্রামানিক না থাকায় তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এসময় আমির প্রামানিকের মেয়ে ফেরদৌসী প্রতিবাদ করলে তারা ফেরদৌসীকে এলোপাতাড়ি ভাবে পিটিয়ে জখম করে। এসময় ফেরদৌসীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এবিষয়ে হাজী মো. তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফেরদৌসীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শাহীন কামাল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।