আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান

মেধাবীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই : আরিফ খান

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধে, যে সকল মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তারা কিন্তু তাদের ব্যাক্তিগত্য আশায় দেশের জন্য যুদ্ধ করেনি। যুদ্ধ করেছে এদেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য।
দেশকে স্বাধীন করার জন্য নিজের জীবনকে উৎস্বর্গ করতে তার সেদিন যুদ্ধে গিয়েছিলো। এমনকি রাতের পর রাত, দিনের পর দিন বনে জঙ্গলে, খেয়ে না খেয়ে পরিবার পরিজন ছেড়ে অস্ত্রাহাতে যুদ্ধ করেছিলো জীবন বাজী রেখে।

মুক্তিযুদ্ধের পর সেক্টর কমান্ডার ও সাবসেক্টর কমান্ডারদের বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৮০০ এবং অ-নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার। অর্থাৎ মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮০০ জন।
পরবর্তীতে একেক সরকার তাদের মতো করে তালিকা করেছে।
যাই হোক ধরা যাক যুদ্ধের সময় অস্ত্রহাতে এক লাখ বা দেড় লাখ মানুষ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে। সে সময় তো সাত কোটি মানুষ ছিলো। ধরে নেই ৩ কোটি পুরুষ ছিলো, ধরলাম ১ কোটি মানুষের তখন সমর্থন ছিলো যুদ্ধে যাওয়ার। তারা কিন্তু সেদিন যুদ্ধে যায় নি। যদি যেতো দেশ টা স্বাধীন করতে ৯ মাস রক্ত ঝরাতে হতো না। লাঠি হাতেও যদি দাড়াতো নয় মাস না তিন মাসেই দেশ স্বাধীন হতো। তখন আপনার মেধাবী বাবা, দাদা কোথায় লুকিয়ে ছিলো বউ বাচ্চা দের নিয়ে বাড়ীতে তারা তখন ছিলো সুযোগ সন্ধানী। এটা ঠিক আপনাদের বাবা দাদারা সবাই সুযোগ সন্ধানী ছিলো না তবে বেশি ভাগ ছিলো সুযোগ সন্ধানী ভিতু আর কাপুরুষ। ভাল , আপনারা বলেন সবাইতো সহযোগীতা করছে। আমি শিকার করি সহযোগীতা করছে আরে ভাই সহযোগীতা না করে কি উপায় ছিলো সেদিন আমার বাবার হাতে অস্ত্র ছিলো, চোখে দেশ স্বাধীন করার স্বপ্ন ছিলো আপনাদের মেধাবী বাবা দাদারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধেও যাবে না, সহযোগীতাও করবে না?? সহযোগীতা করাটা তখন সবারি দ্বায়ীত্ব ছিলোনা কি!! আর এই সামান্য সহযোগী করাই আপনারা এতো দাবিদাওয়া করেন। আর আমার বাবাতো যুদ্ধ করেছিলো আমার দাবিটা কতটা হওয়া উচিৎ ছিলো??
যাক ভাই আমাদের লাগবে না কিছু আমরাতো মেধাহীন, অশিক্ষিত, আল্লাহ্‌ সব মেধা আপনাদের দিয়েছেন!
মেধাবী ভাই বোনেরা ৭৫ পরবর্তীটানা ২১ বছর তারপর ৫ বছর মোট ২৬ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিলো স্বাধীনতার নেতৃত্বদান কারী বর্তমান সরকার।
আচ্ছা ভাই কেমন কেটেছে এই ২৬ টা বছর মুক্তিযোদ্ধাদের বা তাদের পরিবারদের? কত টাকা ভাতা পেতো একজন মুক্তিযোদ্ধা? এই সরকারের আমলে কত লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চাকরি হয়েছে?
আরে ভাই ১০ হাজার করে ভাতাতো দুই বছর হলো দিচ্ছে কিছুটা সম্মানিত করছে এইতো বিগত কয়েক বছর ধরে। তাতেই আমরা আপনাদের চোখের কাটা হয়ে গেলাম?
যে যা খুশি বলছেন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গালাগালি, কটুক্তী ব্যঙ্গ যার যা ইচ্ছা হচ্ছে করছেন। মুখে বলেন সম্মান করি আর ভিতরে ভিতরে হিংসাতা জ্বলে পুড়ে মরেন। ভাইরে আমাদের সম্মান করতে হবে না আমাদের কোটাও লাগবে না। দয়াকরে বিভ্রান্ত হয়ে দেশ টা শেষ করে দিয়েন না।।
এই দেশটার জন্য আমার বাবা যুদ্ধ করেছে রক্ত দিয়েছে। ভাই কষ্ট লাগে যখন দেখি সেই মুক্তিযোদ্ধাদের গালাগালি করেন একেক সময় গুজব ছড়িয়ে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে।
শান্তিপূর্ণ ভাবে অন্দোলন করেন সমস্যা নাইতো আমাদের কিন্তু এইতো অপমান অবগ্যা করছেন কেন?

আমরাতো দেখেছি অতিতেও পলাশী থেকে ৭৫ বাঙ্গালীদের মুখোশ পরা স্বার্থপর, বেইমান মীরজাফর দের।
যে দেশের জন্য জাতীর পিতা সারাজীবন জেল জুলুম হুলিয়া মাথায় নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করলো দেশ কে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার ডাক দিলো নিজেদের জীবন দিতে বাঙ্গালীদের অনুপ্রাণিত করলো ৭৫ তাকেই মেরে ফেলেছি আমরা। আর আমরাতো মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা পরিবার মাত্র কি বা আশা করবো এই দেশের মানুষের কাছ থেকে?

আচ্ছা ভাই মেধাহীগন আর একটু কথা– ৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলো ৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৪ শত ৬৮ জন। মানে প্রায় ৪ লাখ। অংশগ্রহণের জন্য কোন কোটা নেই অবশ্যই।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাশ করেছে মাত্র ১৬ হাজার ২শত ৮৬ জন। এখানেও কোন কোটা নেই। এই ১৬ হাজার ২শত ৮৬ জনের সকলে লিখিত পরীক্ষা দেবেন।
ধরা যাক, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে ১০ হাজার। একটু বাড়িয়েই ধরলাম (৩৭ তম বিসিএস এ লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছিলো ৫ হাজার ৩৭৯ জন)। এখানেও কোন কোটা নেই।
এখন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই ১০ হাজার মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাবে মাত্র ২ হাজার চব্বিশ জন। এবং ঠিক এখানেই কোটা হিসাব করা হবে। ৪ লক্ষ থেকে ১০ হাজারে ঠাঁই করে নেয়া এই তালিকার কাকে আপনি মেধাহীন বলবেন?

এরা প্রত্যেকেই মেধাবী এবং চাকরী পাওয়ার যোগ্য নয় কি? আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এই ১০ হাজারের একজনও কম মেধাবী বা অযোগ্য নয়। সে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের হোক বা না হোক, নারী হোক বা না হোক, প্রতিবন্ধী হোক বা না হোক, আদিবাসী হোক বা না হোক।
একজনকেও যদি কোটায় নিয়োগ দেয়া নাও হয়, তবুও এই তালিকা থেকে মেধাবী ৮ হাজার যোগ্য চাকুরী প্রার্থী সরকারী চাকুরী পাবে না। আপনারা যারা কোটাভুক্তদের অযোগ্য বলে, মেধাহীন বলে দাবী করছেন, তারা ঠিক বুঝে বলছেন তো?

আমাদের অনেকের চাইতেই অবশ্যই এই কোটাধারীরা অনেক বেশি মেধাবী ও যোগ্য। ভেবে দেখবেন। কারন গ্রামের সেই মুক্তিযোদ্ধাটা খুব সুখে ছিলো না পারিবারিক ভাবে সচ্ছল ছিলো। হাতে গুনা কয়েক জন ছাড়া।

যখন বাবার কাছে যুদ্ধের কথা শুনি তাদের কষ্টের কথা শুনি। তখন শুধু গর্ব হয় আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবার জন্য। আমার বাবা ৭১ সালে অস্ত্র হাতে যোদ্ধা ছিলো আমার বাবা বীর যোদ্ধা ছিলো। আপনাদের বাপ দাদার মতো মেধাবী ছিলো না, আপনাদের বাব দাদার মতো এতো বুদ্ধিমান ছিলো মরনের ভয়ে ভিতু ছিলো না আমার বাবা যোদ্ধা ছিলো। এই দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে।।এর চেয়ে বড় অত্মশান্তি আর কি হতে পারে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এই দেশ স্বাধীন করার পেছনে আমার বাবার ঘাম আছে কষ্ট আছে কান্না আছে রক্ত আছে এই দেশে মাটিতে। এটাই তো আমাদের বড় পাওয়া।
মেধাবীরা আবারো বলি ভাই আন্দোলন করেন আমাদের কোন সমাস্যা নাই। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলা বন্ধ করো।
মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে নিজেদের ছোট করা ছাড়া আর কিছু পাবা না। এই দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে আমার বাবার মতো অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধারা। গোটা দেশ দিয়ে দিয়েছে আপনাদের জন্য।।

সামান্য কোটা দিতে পারবো না? দেশের শান্তির জন্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রা তাদের বাবার মতো দেশের জন্য ত্যাগ করতে পারবে না?
আমরা এতো টা লোভী আর স্বার্থপর না ভাই বোনেরা। আবারো বলছি দয়াকরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বাজে কথা বলবেন না এর পরিণাম ভালো হবে না জাতীর জন্য মঙ্গলজন হবে না।

জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু
মো. আরিফ খান।
সাবেক সাধান সম্পাদক ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।