শুরুতেই মেয়রের চমক

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভায় নির্বাচিত হওয়ার পরেই একের পর এক চমক দেখিয়ে যাচ্ছেন নব-নির্বাচিত মেয়র নূর-এ-আলম সিদ্দিকী। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পুরতন ভূঞাপুর সড়কের দুইপাশে যত্রতত্র গড়ে উঠে অবৈধ দোকান ও কাঁচা বাজার। ফলে সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি ছিল সীমাহীন। যানজট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। মেয়র কাজের শুরুতেই কাঁচা বাজার স্থানান্তর ও অবৈধ দোকাট সড়িয়ে চমক দেখিয়েছেন। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। বিগত দিনে প্রশাসন এই কাঁচা বাজার ও অবৈধ দোকানপাট সড়াতে চেষ্টা করলেও বারবার ব্যর্থ হয়েছেন।

সবজি বিক্রেতা, আমিনুর বলেন আমরা আগে সড়কের উপরে দোকানপাট নিয়ে অনেক ঝামেলায় ছিলাম। এখন কাঁচাবাজার মেয়র সাহেব ভাল একটা জায়গায় করে দেওয়ায় অনেক ভাল হয়েছে। রাস্তাঘাটও অনেক ভাল হইতাছে।

এলেঙ্গা পৌরসভার দ্বিতীয় মেয়াদে গত মার্চ মাসের ২৯ তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নূর এ আলম সিদ্দিকী বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে।
নূর এ আলম সিদ্দিকী নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ইসতেহার জনগণের দৌড় গোঁড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল। সাধারণ জনগণ সেই বিশ্বাস নিয়ে বিপুল ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেন। ইতিমধ্যে তার কর্মকান্ডে সাধারণ জনগণ ভূঁয়সী প্রশংসা করছেন।

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এলেঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড। এই বাসষ্ট্যান্ড থেকে পুরাতন ভূঞাপুর সড়ক এবং ড্রেনের কাজ সাবেক মেয়রের অদক্ষতা ও গাফিলতির জন্য চরমভাবে জন ভোগান্তিতে পরিণত হয়। নূর এ আলম সিদ্দিকী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরই সড়ক ও ড্রেনের কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে ব্যক্তিগত অর্থের যোগান দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এদিকে অস্থায়ী কাঁচাবাজার অন্যত্র স্থানান্তরের ফলে বাসষ্ট্যান্ডের প্রকৃত পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। যার ফলে যানজট কমে যাওয়া সহ পথচারীরা নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারছে। নব নির্বাচিত মেয়রের এমন চৌকুস কাজে সাধারণ মানুষ যেমন খুশি সেই সাথে করছেন প্রশংসা। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলেঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন নূর এ আলম সিদ্দিকী। তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনছেন এবং গ্রামের উন্নয়নের জন্য দলের নেতাকর্মী ও গ্রামের মানুষের কাছ থেকে শলাপরামর্শ নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতেই এমন কর্মকান্ডে খুশি হয়ে পৌরসভার বাঁশী গ্রামের সত্তরোর্দ্ধ এক বৃদ্ধ বলেন, বয়সতো কম হইলো না চুল সব পাইকা গেছে। তবে এত ভালো মানুষ এর আগে কহনো নির্বাচিত হবার পারে নাই। আমাগোর ভোট নষ্ট হয় নাই। রিক্সাচালক বাবলু মিয়া বলেন, এই সড়কে খুব কষ্টে রিক্সা চালাইছি। দুইদিন পরপর গেরেজে রিক্সা নেন লাগত। যা কামাই করতাম তার অর্ধেক টাকা গেরেজে দিতাম সড়কের যেভাবে কাজ হইতাছে আমরা তাতে খুব খুশি।
এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ারুল কবীর বলেন, এলেঙ্গাবাসী একজন
প্রগতিশীল সৎ মানুষকে নির্বাচনে বিজয়ী করেছেন। শিক্ষানগরী এলেঙ্গাতে অনেক উপজেলার চেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেশি রয়েছে। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব বেশি। এলেঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড হতে পুরাতন ভুয়াপুর সড়ক এবং ড্রেনের কাজ ধীরগতি ছিল। নতুন মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সচেষ্ট রয়েছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। এখন আর কোন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও পথচারীর চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হতে হবে না।

নব নির্বাচিত মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনের আগে আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল বাজার স্থানান্তর করা। সকলের সহযোগিতায় শুরুতেই বাজার স্থানান্তর করতে পেরে ভাল লাগছে। তিনি আরও বলেন সাধারণ জনগণ পাশে থাকলে এলেঙ্গা পৌরসভাকে একটি আধুনিক মডেল পৌরসভা হিসেবে বিনির্মাণ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।

শর্টলিংকঃ

১ thought on “শুরুতেই মেয়রের চমক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।